রবিবার সকালে হুডখোলা জিপে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা-সহ প্রচার করলেন বিধাননগরের তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু। লেকটাউন দক্ষিণ দাড়ি থেকে দমদম পার্ক পর্যন্ত মিছিল করা হয়। দশ হাজার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করেন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী তথা বিধাননগরের বিদায়ী বিধায়ক সুজিত বসু। তাঁর রাজনীতি শুধুমাত্র ভোটের জন্য নয়। বছরের প্রতিটি দিন মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকারই তাঁর রাজনীতির মূল চাবিকাঠি।
বিধাননগর তাঁর কাছে শুধুমাত্র একটি কেন্দ্র নয়। এখানে তিনি বহু বছর ধরে থাকেন। যার ফলে মানুষের সঙ্গে তাঁর বিশ্বাসের এক নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আর এই বিশ্বাস একদিনে তৈরি হয়নি। মানুষের এই বিশ্বাসের পিছনে রয়েছে তাঁর চল্লিশ বছরের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা, মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার এবং প্রতিশ্রুতি পূরণ।
কাউন্সিলর হিসেবে রাজনৈতিক জীবনের পথ চলা শুরু। তারপর মুখ্যমন্ত্রীর আশীর্বাদ এবং মানুষের বিশ্বাসে চারবারের বিধায়ক হন তিনি। ২০০৬, ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে রাজ্যের মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব রয়েছেন। প্রতিটি পদেই মানুষের নিরলস সেবা করে গিয়েছেন এবং যার ফলও তিনি পেয়েছেন। আর তা সম্ভব হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদ সঙ্গে থাকায়। যা দায়িত্ব পালনে ভরসা জুগিয়েছে।
নিজের দপ্তরে কাজের প্রসঙ্গে বিদায়ী বিধায়ক বলেন, দমকল বিভাগকে তিনি অনেকটাই ঢেলে সাজাতে সক্ষম হয়েছেন। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দমকল পরিষেবা সম্প্রসারণ করার পাশাপাশি নতুন নতুন পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২১টি নতুন দমকল কেন্দ্র তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, যার মধ্যে তারাপীঠ, রাজারহাট এবং টাকির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি ভবানীপুর থেকে একশোটি মোটরসাইকেলের উদ্বোধন করা হয়েছে, যা জরুরি পরিষেবাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে সাহায্য করবে।
বিধাননগর কেন্দ্রে উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি ভিআইপি রোডের উদাহরণ তুলে ধরেন। তাঁর মতে, আগে এই রাস্তা বেহাল ছিল, বর্তমানে তা অনেকটাই উন্নত হয়েছে। বাইরে থেকে কেউ এলেই এই পরিবর্তন চোখে পড়বে। তিনি বলেন, এই দৃশ্যমান উন্নয়নই তাঁর কাজের প্রমাণ। পাশাপাশি দেবীঘাট নির্মাণ এবং মানুষের জন্য পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি পূরণের কথাও তুলে ধরেন। তিনি শুধু মুখে বলেননি, কাজেও করে দেখিয়েছেন। এই কাজই তাঁর প্রতি মানুষের আস্থা বাড়িয়ে তুলেছে।
সুজিত বসু বলেন, তিনি প্রচারের চাকচিক্যে বিশ্বাসী নন। তাঁর কাজ মানুষের চোখে এমনিই ধরা পড়ে। বছরে তিনশো পঁয়ষট্টি দিন রাস্তায় থাকেন এবং মানুষের সমস্যায় পাশে থাকার চেষ্টা করেন। সম্প্রতি এক ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন তিনি। পরে সেই ব্যক্তি তাঁকে ধন্যবাদ জানান। এই ধরনের কাজই তাঁর প্রতিদিনের দায়িত্বের অংশ বলে মনে করেন তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু। এর পাশাপাশি তিনি একটি একশো বেডের হাসপাতাল গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন। যেখানে সাধারণ মানুষ নামী চিকিৎসকের পরিষেবা পাবেন।
তিনি সব সময়ই মানুষের পাশে থাকেন। যে কোনও সময়ই তাঁকে ফোন করলে পাওয়া যায়। এমনকি রাতেও কেউ ফোন করলে তিনি তা ধরেন। তিনি বিশ্বাস করেন মানুষের বিপদে পাশে থাকাই তাঁর কাজ। দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে তিনি এই ভাবে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। অনেকের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কও গড়ে উঠেছে। যা রাজনীতির বাইরে এক বৃহত্তর মানবিক বন্ধন তৈরি করেছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে সুজিত বসু বলেন, বাংলার মাটিতে হিন্দু-মুসলমানের বিভাজন নেই। এই প্রসঙ্গে তিনি রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের ‘যত মত তত পথ’ এবং স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলার মনীষীদের এই আদর্শকে বাস্তব জীবনে যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা প্রসঙ্গে বিজেপিকে একহাত নেন তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু। এই ধরনের সংস্কৃতি বাংলার নয় বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। এই ধরনের কাজ বাংলা ও বাঙালির প্রতি অপমান।
তাঁর দাবি বিজেপি বাংলার সংস্কৃতি বোঝে না। বাংলা দখল করা এত সহজ নয় বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এবার নির্বাচনে বিজেপির আসন কমবে বলে দাবি করেন সুজিত বসু। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের বার্তা দেন। সামনে নির্বাচন, তাই লড়াই হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। কোনও প্ররোচনায় পা না দিয়ে সংযম বজায় রাখার জন্য আহ্বান জানান তিনি। উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করা হবে কিন্তু কর্মীদের দায়িত্ব থাকবে পরিস্থিতি শান্ত রাখা।