বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে প্রাক্তন আইপিএস অফিসার ও তৃণমূল নেতা রাজীব কুমারকে কেন্দ্র করে। নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার সময় তাঁকে স্যালুট করতে দেখা যায় পুলিশকর্মীদের। আর সেই ঘটনাকেই হাতিয়ার করে রাজ্য পুলিশ ও তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
সোমবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করতে নিউটাউনে পৌঁছয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল। সেই দলে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রাজীব কুমার। বৈঠকে ঢোকার সময় উপস্থিত পুলিশকর্মীদের একাংশকে রাজীব কুমারকে স্যালুট করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ। আর সেই ঘটনাকে ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, রাজীব কুমার এখন আর প্রশাসনের কোনও পদে নেই। তিনি এখন সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা। সেই পরিস্থিতিতে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে পুলিশকর্মীদের স্যালুট করা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তোলে বলেই অভিযোগ তাঁর।
উল্লেখ্য, রাজীব কুমার একসময় রাজ্য পুলিশের ডিজি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার পর তিনি অবসর নেন এবং পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। বর্তমানে তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবেও ঘোষণা করেছে। সেই কারণেই তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিরোধীদের আরও জোরালো প্রশ্ন উঠছে।
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, প্রশাসনের সঙ্গে শাসকদলের এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। তাঁর দাবি, একজন সক্রিয় রাজনৈতিক নেতাকে পুলিশকর্মীদের স্যালুট করা উচিত নয় এবং এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
তবে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্য পুলিশ বা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজীব কুমার দীর্ঘদিন পুলিশের শীর্ষ পদে থাকার কারণে অনেক পুলিশকর্মী এখনও তাঁকে পুরনো অভ্যাসবশত সম্মান জানিয়ে থাকেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে সরব হলেও শাসকদলের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।