ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে কড়া নজরদারি, রাজ্যে মোতায়েন ৭০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

ফাইল চিত্র

ভোট মিটলেও অশান্তির আশঙ্কা ঠেকাতে রাজ্যে কড়া নজরদারিতে নির্বাচন কমিশন। ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর একাধিক পদক্ষেপ করেছে। কমিশনের দাবি, ভোটগণনা কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলার প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত সর্বত্র শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যজুড়ে ৭০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখা হচ্ছে। সংবেদনশীল এলাকা ও অশান্তিপ্রবণ অঞ্চলে বিশেষ টহলদারির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, গণনাকেন্দ্রগুলিতে থাকছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়, যাতে কোনও রকম অননুমোদিত প্রবেশ বা গোলমাল এড়ানো যায়।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এ বার প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। কিউআর-কোডযুক্ত পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে গণনাকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হবে না। অনুমোদিত কর্মী ও প্রতিনিধিরাই শুধুমাত্র প্রবেশাধিকার পাবেন। কমিশনের মতে, এর ফলে নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।


একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে বিশেষ নজরদারি কেন্দ্র। নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয় থেকে পরিস্থিতির উপর নিরন্তর নজর রাখা হবে। কোথাও কোনও অশান্তি, ভয় দেখানো বা বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ উঠলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকারও আবেদন জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্টও জানিয়েছে যে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন অসামরিক ও পুলিশ প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। কোনও অভিযোগ বা জরুরি তথ্য জানাতে কমিশনের হেল্পলাইন নম্বর ১৮০০ ৩৪৫ ০০০৮-এ যোগাযোগ করার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি wbfreeandfairpolls@gmail.com ই-মেল আইডিতেও অভিযোগ পাঠানো যাবে। অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে কমিশন।