অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে এবার আরও কঠোর পদক্ষেপ নিল দার্জিলিং জেলা প্রশাসন। রাজ্য সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ অর্থাৎ থ্রি-ডি নীতিকে কার্যকর করতে শিলিগুড়ির মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি এলাকার আঠারোখাই কমিউনিটি হলকে অস্থায়ী হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের নির্দেশিকার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট, দার্জিলিং জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলিতে।
এই হোল্ডিং সেন্টারের মূল উদ্দেশ্য হল অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো। ততদিন পর্যন্ত তাঁদের এই আটক কেন্দ্রে রাখা হবে।
এই হোল্ডিং সেন্টারের মূল উদ্দেশ্য হল অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো। ততদিন পর্যন্ত তাঁদের এই আটক কেন্দ্রে রাখা হবে।
দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিশঙ্কর পানিক্কর জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই কমিউনিটি হলের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার দায়িত্ব পুলিশের উপরেই ন্যস্ত থাকবে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করবে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট ও দার্জিলিং জেলা পুলিশ যৌথভাবে।
পাশাপাশি বিএসএফের সঙ্গেও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। নথি যাচাই ও প্রশাসনিক তদারকির জন্য শিলিগুড়ির মহকুমাশাসক এবং একজন এসিপি পদমর্যাদার আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হবে বলেও প্রশাসন জানিয়েছে।
নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অনুপ্রবেশকারীরা এলাকায় বসবাস করে স্থানীয় জনবিন্যাস ও অধিকার ব্যবস্থার উপর প্রভাব ফেলছিল। বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থানের ফলেই এই পদক্ষেপ সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য তাঁর।