রাজ্যে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ, নতুন নির্দেশনা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছেন।  এই নির্দেশকা অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের আদালতে পেশ করার কোনও  প্রয়োজন নেই বলে জানানো হয়েছে। বরং, তাদের সরাসরি সীমান্তে পাঠিয়ে দিতে হবে। বৃহস্পতিবার হাওড়ার প্রশাসনিক বৈঠক শেষে এই নির্দেশিকা পুনরায় বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
 রাজ্যের অভিবাসন নীতি নিয়ে  আলোচনা  হয়। হাওড়া স্টেশন, যা পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ত রেলস্টেশন, সেখানে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ধরতে আরও বেশি নজরদারি রাখতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুলিশ কমিশনার এবং আরপিএফ-কে বলা হয়েছে, যদি কোনও অবৈধ বাংলাদেশি হাওড়া স্টেশনে ধরা পড়ে, তাদের যথাযথ খাবারের ব্যবস্থা করে সোজা বনগাঁ পেট্রাপোল সীমান্তে অথবা বসিরহাটের সীমান্ত চৌকির কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে রাজ্যের অভিবাসন নীতির কঠোর বাস্তবায়নের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, রাজ্য রাজনীতিতে এই কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিজেপি নির্বাচনের প্রচারে বিভিন্ন সময়ে বলেছিল, তারা অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্য থেকে তাড়াবে। সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সকল পুলিশ ও আরপিএফ সদস্যদেরকে একটি প্রকল্পের আওতায় কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি অনুরোধ করেন, প্রতি সপ্তাহে ধৃত অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য ডিজিপির মাধ্যমে তাঁর দপ্তরে পাঠাতে হবে। এর ফলে, রাজ্যে অবৈধভাবে প্রবেশ করা বিদেশিদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। সিএএ অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টানদের জন্য শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তবে যারা এই আইন এর আওতায় পড়ে না, তাদের তাড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন করে গতি দেওয়া হয়েছে। গত বছরের এক সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যেতে পারে। তবুও, যারা সিএএ-র আওতায় নন, তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে মুখ্যমন্ত্রী নতুন নির্দেশিকায় জোর দিয়েছেন।
শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপের ফলে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়ে গিয়েছে। পূর্ববর্তী সরকার এই আদেশ কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর সরকার এই নির্দেশিকাকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এর মাধ্যমে অসম্প্রদায়িক সমাজের সুরক্ষায় নিশ্চয়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। রাজ্যের অভিবাসন নীতি এবং বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনাও বাড়ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এই পদক্ষেপগুলো কি আদৌ সুফল বয়ে আনবে, নাকি এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত সংকট বাড়বে? সুতরাং, এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে চিরন্তন আলোচনা এবং বিশ্লেষণ চলতে থাকবে।