ঝাড়গ্রাম সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনা রাতারাতি বদলে দিয়েছিল বিক্রম সাউয়ের জীবন। সেই ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রমকুমার সাউকে এবার খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেজ এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি। তিনি জানিয়েছেন, অপরিচিত নম্বর থেকে আসা ভিডিও কল রিসিভ করলেই থেকে কয়েকজন ব্যক্তি অস্ত্রশস্ত্র দেখিয়ে তাঁকে ভয় দেখাচ্ছে। এমনকি তাঁর দোকান বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ঘটনায় ঝাড়গ্রাম জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার প্রচারে ঝাড়গ্রামে সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সভা শেষে কনভয়ে ফেরার সময় তিনি গাড়ি থেকে নেমে ঝাড়গ্রাম শহরের রাজ কলেজ মোড় এলাকার বাসিন্দা বিক্রমকুমার সাউয়ের দোকানে গিয়ে ঝালমুড়ি খান। সেই ঘটনা রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল।
অভিযোগ, এরপর থেকেই বিক্রমকুমার সাউয়ের মোবাইলে একাধিক হুমকির বার্তা আসতে শুরু করে। এই ঘটনার জেরে তিনি ও তাঁর পরিবার আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতির কারণে তিনি দোকান বন্ধ করে আত্মগোপন করেছেন বলেও খবর।
ঘটনায় ঝাড়গ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এবং সাইবার ক্রাইম বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে। যেসব নম্বর থেকে হুমকি এসেছে সেগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় রাজনৈতিক কারণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।
বিক্রম জানিয়েছেন, আইসিকে সবটা জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রতিদিন দোকান থেকে সাইকেলে করে বাড়ি ফেরার সময় আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। যদিও প্রশাসনের তরফে ওই ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রমের নিরাপত্তায় এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিনপুর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক প্রণত টুডু বলেন, ‘একজন সাধারণ ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে হুমকি দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বাইরের কোনও দেশের লোক আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের হুমকি দেবে, এটা আমরা মেনে নেব না। সে পাকিস্তান হোক বা বাংলাদেশ।’