আবার মাদক পাচারের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশের অভিযানে বড় সাফল্য মিলল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তার ভিত্তিতে মালদহের কালিয়াচকের মধুঘাট সংলগ্ন ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে একটি গাড়ি আটক করে পুলিশ। ওই গাড়িতে তল্লাশি চালাতেই বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ প্রায় ২.৬৮৮ কেজি। এই ঘটনায় আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্র জড়িত বলে মনে করছে পুলিশ। এই অভিযোগে গাড়িতে থাকা চারজনকে গ্রেপ্তার করল তদন্তকারীরা। এই ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এসটিএফের অফিসার এবং কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে নিরাপদ ও মাদকমুক্ত পশ্চিমবঙ্গ গড়ার অঙ্গীকারের ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপরই সক্রিয় হয়ে উঠেছে পুলিশ-প্রশাসন। একের পর এক মাদক-সহ ধরা পড়ছে পাচারকারীরা। এবার প্রায় তিন কেজি মাদক মরফিন উদ্ধার হল। পুলিশ সূত্রে খবর, এসটিএফ জাতীয় সড়কে গাড়ি আটক করে তল্লাশি চালায়। তখন গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদক। এই ঘটনায় চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মাদক পাচার চক্রের শিকড় কতদূর, কারা এসবের পিছনে রয়েছে এবং আন্তঃরাজ্য স্তরে এই নেটওয়ার্ক কেমনভাবে কাজ করত সেটা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এই মোট মাদকের পরিমাণ ২ কেজি ৬৮৮ গ্রাম। যার বাজারদর প্রায় ৩ কোটি টাকা। এই ঘটনায় শাহিবার আলি, মাসুদ রহমান, হাসিবুর শেখ, মহম্মদ নাবিউল হক নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই অভিযানের কথা জানতে পেরে তিনি তাঁর সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ, সমন্বিত অভিযান এবং কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠার ফলেই এই বড় সাফল্য এসেছে।’ একইসঙ্গে ধৃতদের জেরা করে গোটা মাদক চক্রকে গোড়া থেকে নির্মূল করার লক্ষ্যে তদন্ত চালানোর কথা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। এই মাদক কোথায় এবং কাদের কাছে পাচার করা হচ্ছিল তা তদন্ত করে দেখছে এসটিএফ।
তাছাড়া তদন্তকারীরা জানান, ধৃতরা আন্তঃরাজ্য মাদক পাচারকারী হিসেবে কাজ করত। ধৃতদের প্রত্যেকের বাড়িই কালিয়াচক থানা এলাকায়। ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে। এই ঘটনা নিয়ে সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, ‘অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত এই অভিযানের সাফল্যের জন্য পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং স্পেশাল টাস্ক ফোর্সsর সমস্ত অফিসার ও কর্মীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। মাদক ব্যবসায়ী, পাচারকারী এবং চক্রের মাথাদের বিরুদ্ধে কোনওরকম আপস করা হবে না। রাজ্য সরকারের অবস্থান, মাদক পাচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। বিশেষ করে যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে প্রশাসন আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মাদকমুক্ত ভারত গড়ার সংকল্পে, নেশার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। পশ্চিমবঙ্গের যুবসমাজের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত রাখতে এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তুলতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’