২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২৪০ থেকে ২৫০টি আসন পাবে। শুক্রবার নিজের লোকসভা কেন্দ্র পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে দলীয় প্রার্থীর প্রচারে এই মন্তব্য করলেন তৃণমূল সাংসদ দেব। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য এবার বিধানসভায় ২২৬ আসনে জয়ের লক্ষ্য রেখেছেন দলের নেতা-কর্মীদের সামনে।
ঘাটাল বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী সর্দারের সমর্থনে কুশপাতা এলাকায় পদযাত্রা করেন দেব। সেখানেই তিনি বলেন, ‘যদি মানুষ চায়, যে ভালো কাজ করবে সে থাকবে।’ পাশাপাশি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করে দেব বলেন, ‘বিজেপি কখনও কথা দিয়ে কথা রাখে না। ওরা ভোটের আগে বলেছিল ১৫ লাখ টাকা দেবে। কাউকে দিয়েছে? দু’কোটি চাকরি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কারও চাকরি হয়েছে? বিজেপি কখনও কথা দিয়ে কথা রাখে না। তাই বলছি, এবার যদি ঘাটালে শ্যামলী হারে, তাহলে রাজনীতি জিতে যাবে। মানুষ হেরে যাবে।’ এবারের বিধানসভা ভোটে ঘাটালের মাস্টার প্ল্যানকেই প্রচারে হাতিয়ার করেছে তৃণমূল। যদিও কাজের গতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। এদিন বিরোধীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে দেব বলেন, ‘বিরোধীরা বিরোধিতা করবে, কারণ তাদের কাছে বলার মতো কিছুই নেই। রাজ্য সরকার অর্থ বরাদ্দ করে কাজ করছে। তাতে হয়তো একটু সময় লাগবে। বিরোধীরা নানা অভিযোগ তুলছে। কিন্তু তারা আজ পর্যন্ত মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কী করেছে? ঘাটালের বিধায়ক তো বিজেপির। আজ পর্যন্ত সে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে একটাও চিঠি লিখেছে?’
দেবের তোলা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী শীতল কপাট। তিনি পাল্টা বলেছেন, ‘দেব ২৫০ আসনে জেতার দিবাস্বপ্ন দেখছেন। কারণ, রাজ্যে এবার বিজেপি ক্ষমতায় আসছে। শীতলের দাবি, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কোনও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে হচ্ছে না। কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়া তা সম্ভবও নয়। ঘাটালের মানুষ সেটা বুঝে গিয়েছে। ভোটে তার জবাব পেয়ে যাবেন। অন্যদিকে সিপিএমের ঘাটাল এরিয়া কমিটির সম্পাদক চিন্ময় পালের অভিযোগ, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে দুই দলই নাটক করছে। দেব তো অভিনেতা থেকে সাংসদ হয়েছেন। মাস্টার প্ল্যানের বিষয়ে উনি কি কিছু জানেন?