রাজ্যপালের নিরাপত্তার বিষয় পুনর্বিবেচনা করতে কেন্দ্রকে রাজ্যের চিঠি

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। (Photo: IANS)

দুই চব্বিশ পরগনায় জেলা প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ভেস্তে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। আর এই বৈঠকে প্রশাসনের কর্তাদের গরহাজিরা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রীকেও ছেড়ে কথা বলেননি তিনি। ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই ফের টুইট করে সােমবারের ঘটনাবলি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যপাল।

তিনি টুইটে লিখেছেন, এখন যদি চুপ করে থাকি, তাহলে সারা জীবন চুপ করে থাকতে হবে। দুই চব্বিশ পরগনায় গিয়ে আমি সাধারণ মানুষের উৎসাহ লক্ষ করেছি। জেলা প্রশাসনের কর্তারাও সেখানে ছিলেন। কিন্তু যেভাবে তাঁর সঙ্গে অসহযােগিতা করা হয়েছে, তা দুঃখের। আর এতে আমার সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে।

২১ তারিখে রাজভবনে পাঠানাে চিঠি ভয়াবহ অবস্থার সংকেত বলে মনে করছেন রাজ্যপাল ধনকর। বিষয়টি নিয়ে সরকারের ভাবা প্রয়ােজন বলে মনে করছেন তিনি। রাজ্যপালের এই মন্তব্য নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে শাসকদল।


এদিকে রাজ্যপালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে চিঠি পাঠাল নবান্ন। রাজ্য সরকার রাজ্যপালের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করে থাকে, সেখানে সিআরপিএফ বাহিনীকে নিয়ােগ করা সঠিক নয়। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে আর কেনই বা হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত সে ব্যাপারে জানতে চেয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে চিঠি পাঠানাে হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

১৫ অক্টোবর রাজ্যপালের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্যপুলিশ নয়, এবার থেকে রাজ্যপালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। নিয়মানুসারে পনের থেকে কুড়িজন সিআরপিএফ জওয়ানকে নিয়ে রাজ্যপালের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাবলি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

নবান্ন সুত্রে জানা গিয়েছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি তুলে ধরে পাঠানাে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে রাজ্য সরকার রাজ্যপালের জন্য প্রয়ােজনীয় নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আলাদা করে নিরাপত্তা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে, কেন্দ্র বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও এখনও পর্যন্ত সিআরপিএফ কর্তারা রাজ্যপালের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও বৈঠক করেননি। তবে তাঁরা মনে করছেন, যাদবপুরকাণ্ডের ঘটনাবলির পরে রাজ্যপালের কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

রাজ্যপালের সঙ্গে সরকারের সংঘাত শুরু হলেও তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টিকে কোনও গুরুত্ব দিতে চাইছে না। তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় এব্যাপারে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তিনি বলেছেন, অতীতে রাজ্যে অনেক রাজ্যপাল ছিলেন। কিন্তু এই কমের রাজ্যপাল দেখিনি। বুদ্ধবাবুর আমলে গােপালকৃষ্ণ গান্ধির কথাও উল্লেখ করেছেন পার্থবাবু। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিঙ্গুর আন্দোলন নিয়ে রাজ্যপাল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে ডেকে রাজভবনে বৈঠক করেছিলেন। কিন্তু এমন অবস্থা কোনও দিন হয়নি।