তৃণমূল কংগ্রেসের নাম-প্রতীক নিয়ে দড়ি টানাটানির জেরে তা ফ্রিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন পদক্ষেপের পর এবার চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানালেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েও দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার সকালে নিজের বিধানসভা কেন্দ্র খড়গপুরে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ হওয়া নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরকেই তীব্র ব্যঙ্গও করেন তিনি।
তৃণমূল কংগ্রেসের নাম-প্রতীক উপনির্বাচনের প্রাক্কালে ফ্রিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। এই নিয়ে এখন রাজ্য-রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতির প্রাঙ্গণ তোলপাড় হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই দুই শিবিরকে জমা দিতে হয়েছে নতুন দলের নাম প্রতীক। এখন সবটাই সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। এই পদক্ষেপ করার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলকে নিয়ে দিলীপ ঘোষের দাবি, তাঁদের এই ক্ষমতার টানাটানির ফলেই প্রতীক হারিয়েছে দলটি। দিলীপ ঘোষের তোপ, ‘ঘাসের ওপর জোড়াফুল চিহ্নটি ‘লুটের প্রতীক’। আমরা অনেক আগেই বলেছিলাম, এই প্রতীক বন্ধ হওয়া উচিত। এটা স্রেফ সাধারণ মানুষের ধনসম্পদ লুটের প্রতীক ছাড়া আর কিছুই ছিল না।’
বিধানসভা নির্বাচনের পরই তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খান খান হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে সাংসদদের একটা বড় অংশ এনসিপিআই দলে যোগ দেন। বিধায়কদের বিদ্রোহী অংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে আলাদা হয়ে যায়। বাকি অংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পড়ে থাকে। এবার তাদের দলের নাম-প্রতীক ফ্রিজ হয়ে গিয়েছে। সুতরাং চাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই অবস্থায় দিলীপ ঘোষের কড়া মন্তব্য, ‘দুই শিবিরের টানাটানিতে অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন নিজেই ঘাসফুল উপড়ে ফেলে দিয়েছে।’
তাছাড়া নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতা মেনে নতুন নাম-প্রতীক জমা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল রাতেই ইমেল করেছেন তিনি। আর শুক্রবার সকালে জমা দিয়েছে ঋতব্রত শিবিরও। রাজ্য থেকে জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে এখন এটাই চর্চিত হচ্ছে। কিন্তু দিলীপ ঘোষের সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ, ‘হিম্মত থাকলে এবার অন্য নতুন প্রতীক নিয়ে জনগণের নির্বাচনে লড়ে দেখাক! তা হলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে কার কত দম রয়েছে। তৃণমূল দলটা এখন রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নির্মূল। আগামী দিনে এই দলটাও থাকবে না, আর ঘাসও থাকবে না।’