‘বিরোধীরা যদি জায়গা ধরে রাখতে না পারে তার জন্য আমরা দায়ী নই’, খোঁচা দিলীপের

Dilip Ghosh Photo-SNS

রাজ্যে আসন্ন উপনির্বাচনের প্রাক্কালে বিরোধী দলগুলির নেতা-নেত্রীরা অভিযোগ তুলছেন, বিরোধী প্রার্থীদের উপর হামলা নামিয়ে আনা হচ্ছে। প্রচার থেকে রাজনৈতিক কাজ করার জন্য শাসক বিজেপি জায়গা দিচ্ছে না। বিরোধীদের ভয় পাচ্ছে বলেই পুলিশ দিয়ে হুমকি, ভয় দেখানো হয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর কেন্দ্রে উপনির্বাচন রয়েছে। বিরোধীদের এইসব অভিযোগ এবার নস্যাৎ করে দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি বিরোধীদেরই দায়ী করেছেন তিনি। সোমবার শিলিগুড়ি থেকে বিরোধী দলগুলির নেতা-নেত্রীদের কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন তিনি।

এদিকে রবিবারই কোচবিহার থেকে শিলিগুড়ি পৌঁছেছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। সোমবার সেখান থেকেই কালিম্পং যাওয়ার কথা মন্ত্রীর। তার আগে সোমবার সকালে শিলিগুড়ি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় প্রাতঃভ্রমণে বের হন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। আর এখানেই আসন্ন উপনির্বাচন নিয়ে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পঞ্চায়েতমন্ত্রী দাবি, ‘বিরোধীরা নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে পারছে না। তার জন্য মানুষ বা আমরা দায়ী নই। বিধানসভা উপনির্বাচনে মানুষ বিজেপির সঙ্গেই থাকবে। অনেক হুঙ্কার দেখেছি, যে বাবরি মসজিদ করবেন বলেছিলেন, টাকা পয়সা এসে গেল, ভোট এসে গেল! সেটা তো করতে পারলেন না। ওখানের মানুষই বুঝুক।’

অন্যদিকে কদিন আগে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী নাম প্রত্যাহার করে নেন নিজেই। এই ঘটনার পিছনে বিজেপির খেলা আছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। তারপর কংগ্রেসের প্রার্থীকে সমর্থন করে তৃণমূল। কিন্তু পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে যান তিনি। এটার পিছনেও বিজেপির হাত দেখছে বিরোধীরা। এবার এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষের খোঁচা, ‘বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ রায় দিয়েছেন। যথেষ্ট সংখ্যায় বিরোধীদের জায়গাও দিয়েছেন। এখন বিরোধীরা যদি নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে না পারে, নিজেদের ভূমিকা পালন করতে না পারে তার জন্য মানুষ বা আমরা দায়ী নই। মানুষ আমাদের কাছ থেকে উন্নয়ন চান। বিরোধীরা নিজেদের মধ্যে লড়াই করলে তার দায় কে নেবে?’


তাছাড়া একদিন আগেই যাদবপুরে চলে দুষ্কৃতী তাণ্ডব। সেখানে ভাঙা হয়েছে তৃণমূল এবং সিপিএমের পার্টি অফিস। রাজ্যে বিরোধী শূন্য করার খেলা হচ্ছে বলে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষের সপাটে জবাব, ‘কে বিরোধী শূন্য করেছে? পশ্চিমবঙ্গের মানুষ রায় দিয়েছেন। যথেষ্ট সংখ্যায় বিরোধীদের জায়গা দিয়েছেন। এখন বিরোধীরা যদি নিজের রোল প্লে করতে না পারে তার জন্য পাবলিক বা আমরা কেউ দায়ী নয়। আমাদের সরকারে থাকা আর উন্নয়ন করার কাজ দিয়েছেন সেটাতে আমরা লেগে আছি। এখন বিরোধীরা যদি নিজেরা লড়াই করে সেটার জন্য কে দায় নেবে! তারাই ঠিক করুক। উপনির্বাচন নিয়ে সবাই উৎসাহী। সবাই লড়ুক, কিন্তু ফলাফল কী হবে সবার জানা আছে। আর বিজেপির এখন অত সময় নেই কারও পার্টি অফিস ভাঙার। এখন আমরা প্রশাসন চালিয়ে লোককে পরিষেবা দিতে চাই। বিজেপি সেই কাজেই লেগে আছে। যাদের কোনও কাজ নেই তারা ভাঙাভাঙি করছে। সিপিএমের কাছে কিছু নেই, নিজেরাই ভাঙাভাঙি করে রোজ খবরে আসার চেষ্টা করে।’