নতুন প্রজন্মকে গ্রন্থাগারমুখী করতে হবে। আর তার জন্য একাধিক পদক্ষেপ করল রাজ্যের গ্রন্থাগারমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। রাজ্যে এমন বহু গ্রন্থাগার আছে যেগুলি এখন সেভাবে চলে না। অথচ সেখানে পরিকাঠামো নেই এমন নয়। বহু মেধাবী গরিব ছাত্র-ছাত্রী আছেন যাঁরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসার উপযুক্ত কোচিং পান না। এখন ডিজিটালের যুগ। সেখানে গ্রন্থাগারগুলিকে ডিজিটাইজ করলে নতুন প্রজন্মের পড়ুয়ারা আকর্ষিত হবে। তাতে গ্রন্থাগারগুলি যেমন চলবে তেমন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় যাঁরা বসতে চান তাঁরা কোচিং পেয়ে উপকৃত হবেন। বিনামূল্যে এমন পরিষেবার কথা ভেবেছেন রাজ্যের গ্রন্থাগারমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। বুধবার নানা পরিকল্পনার কথা জানালেন তিনি।
রাজ্যের জেলা এবং মহকুমা স্তরের বহু গ্রন্থাগার আছে যেখানে পরিকাঠামোর অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে। সেখানে যেমন বইয়ের অভাব আছে তেমন পরিকাঠামোর অভাবও আছে। আর তাই নতুন প্রজন্মের পড়ুয়ারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তাঁদের আবার গ্রন্থাগারমুখী করতে লাইব্রেরীগুলি ডিজিটালাইজ করা হবে। নদিয়ায় একটি ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনে যোগ দিয়ে গ্রন্থাগারমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ এই কথাও জানিয়েছেন। এমনকী লাইব্রেরিগুলির মাধ্যমে গ্রামীণ এবং প্রান্তিক স্তরের ছেলেমেয়েদের জন্য বিনামূল্যে নানা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ইউপিএসসি, নিট, ডব্লিউবিসিএস কোচিং দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছেন গ্রন্থাগারমন্ত্রী। এটা অবশ্যই অভিনব পদক্ষেপ। গ্রন্থাগারগুলির খোলনলচে বদলে নতুন করে গড়ে তোলার কথা ভাবা হয়েছে।
নদিয়ার মুরুটিয়া থানার অধীনদারের হাইস্কুল মাঠে ১৬ দলীয় নকআউট ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে। সেখানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন গ্রন্থাগারমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। সেখানে গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘এখনকার যুগের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা এবং খেলাধুলা থেকে দূরে সরে গিয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। এই বয়সে মোবাইল নির্ভরতার জেরে অনেকেই অজান্তেই নানা অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এখান থেকে তাঁদের বের করে নিয়ে আসতে হবে। আর গ্রন্থাগারমুখী করতে হবে। তাই নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
তাছাড়া গ্রন্থাগারমন্ত্রী করিমপুর এবং প্রান্তিক অঞ্চলের ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার দিকে আরও বেশি করে মন দেওয়ার পরামর্শ দেন। গ্রন্থাগারে যাতে তাঁরা আসেন তার জন্য ব্যবস্থা করা হবে। গ্রন্থাগারমন্ত্রীর কথায়, ‘জেলার মহকুমা এবং জেলা গ্রন্থাগারগুলি ডিজিটালাইজ করা হবে। প্রান্তিক এলাকার ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজ যাতে গ্রন্থাগারে এসে পড়াশোনা করে নিজেদের জ্ঞান আরও সমৃদ্ধ করতে পারে তার জন্য রাজ্য সরকার মহকুমা এবং জেলা স্তরের লাইব্রেরিগুলিকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতিমধ্যেই চলতি অর্থবর্ষে পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রায় ৩৫ হাজার গ্রন্থ ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। ডিসেম্বর মাসেই তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।’