‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এ মাসিক ভাতা বাড়াল রাজ্য, ফেব্রুয়ারি থেকেই মিলবে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা

xr:d:DAFwLYn03CE:3,j:165912106069518368,t:23100306

রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর বরাদ্দ অর্থ বাড়ানোর ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার রাজ্য বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, এই প্রকল্পে উপভোক্তারা এবার থেকে মাসে আরও ৫০০ টাকা করে বেশি পাবেন। বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই এই বর্ধিত অর্থ কার্যকর করা হবে। ফলে ভোটের আগেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত টাকা জমা পড়বে।
বর্তমানে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের আওতায় উপভোক্তার সংখ্যা ২ কোটি ২১ লক্ষ। অর্থমন্ত্রী জানান, আরও প্রায় ২০ লক্ষ ৬২ হাজার মহিলার আবেদন জমা পড়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর তাঁদেরও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নতুন ও পুরনো—সব উপভোক্তাই বর্ধিত ভাতা পাবেন বলে জানানো হয়েছে।
এতদিন সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১০০০ টাকা করে পেতেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁদের মাসিক ভাতা বেড়ে হবে ১৫০০ টাকা। অন্যদিকে, তফসিলি জাতি, তফসিলি জনজাতি এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মহিলারা এতদিন মাসে ১২০০ টাকা করে পেতেন। তাঁদের ক্ষেত্রে এই ভাতা বাড়িয়ে মাসে ১৭০০ টাকা করা হয়েছে।
বর্ধিত ভাতার ফলে রাজ্য সরকারের উপর আর্থিক দায় বাড়বে। সেই কারণেই বাজেটে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যদিও এই অতিরিক্ত বরাদ্দ ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে কার্যকর হবে বলে বাজেট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই ঘোষণায় লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে যুক্ত লক্ষ লক্ষ মহিলা উপকৃত হবেন বলে মনে করছে প্রশাসন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প। ক্ষমতায় ফিরে ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই রাজ্য সরকার প্রকল্পটি চালু করে। তারপর গত পাঁচ বছরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের হাতে পৌঁছেছে প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকা। রাজ্য বাজেটের পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যাচ্ছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে নবান্ন। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের জন্য বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছিল ২৭ হাজার কোটি টাকা।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, গত বছরের বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা অপরিবর্তিত রাখা হয়। তবে তার আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের ঠিক আগে ভাতা বৃদ্ধি করেছিল রাজ্য সরকার। সেই সময় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করা হয়েছিল।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, লোকসভা নির্বাচনে গ্রাম বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের ভালো ফলের নেপথ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটারের সংখ্যা সাড়ে ৭ কোটির কাছাকাছি। তার মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তা। অর্থাৎ, রাজ্যের বিপুল সংখ্যক ভোটার সরাসরি এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। এই পরিসংখ্যানের দিকে নজর রেখেই ভোটের মুখে ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের মতে, মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে আরও মজবুত করতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে সামনে রেখেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল সাজাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।