রাজ্যে সরকার বদলের পর স্বাস্থ্য পরিষেবার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। তাই জেলার সরকারি হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো কেমন এবং পরিষেবার মান কত উন্নত সেসব খতিয়ে দেখতে শুক্রবার জেলা সফরে বেরিয়ে পড়েন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে সারপ্রাইজ ভিজিট করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। এই হাসপাতালের পরিকাঠামো এবং পরিষেবার মান দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা এবং পরিষেবা খতিয়ে দেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন তিনি।
হলদিয়া মহকুমা হাসপাতাল পরিদর্শন করে বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আর সেখানের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জেনে নেন পরিষেবার মান। তারপর সেখানে নানা সমস্যার খোঁজ নেন। হাসপাতালের ভবনের অবস্থা অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে উদ্বেগপ্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, দ্রুত রাজ্য সরকার ব্যবস্থা নেবে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভবনের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেন হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের (এইচডিএ) চেয়ারম্যান, মহকুমাশাসক এবং সিএমওএইচকে। নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণে সময় লাগবে। কিন্তু বন্দরশহরের বাসিন্দাদের চিকিৎসা পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয় সেটার জন্য আইওসি এবং হলদিয়া বন্দর কর্তৃপক্ষের হাসপাতালের সহযোগিতা নেওয়ার পথও বাতলে দেন মন্ত্রী। এইচডিএ-র ট্রমা সেন্টার আগামী দু’মাসের মধ্যে চালু করাও নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এরপর রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী পৌঁছন নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। সেখানেও হাসপাতালের সব ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন এবং রোগীদের পাশাপাশি চিকিৎসক এবং নার্সদের সঙ্গে কথা বলেছেন। হাসপাতালের পরিকাঠামো, চিকিৎসা পরিষেবা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন মন্ত্রী। পরিদর্শন শেষ করে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘জেলার দুটি হাসপাতাল ঘুরে দেখার পর আমার মনে হয়েছে, এখন নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালই সবচেয়ে ভালভাবে পরিচালিত হচ্ছে।’
তাছাড়া যেখানে সামান্য ত্রুটি বা ঘাটতি রয়েছে সেগুলিও দ্রুত সংশোধন করা হবে বলে জানিয়ে দেন শারদ্বত। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘হাসপাতালগুলিতে যে সমস্ত ছোট সমস্যা রয়েছে, সেগুলি দ্রুততার সঙ্গেই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও উন্নত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’ একইসঙ্গে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, নজরদারির ঘাটতি এবং অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এমনকী দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে একাধিক আধিকারিককে শোকজের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া একাধিক বেড দীর্ঘদিন ব্যবহার না হয়ে হাসপাতালে অবহেলায় পড়ে আছে। সেসব নষ্ট হতে দেখে মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আর হাসপাতালের ভিতরে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।