‘হাসপাতালের মধ্যে গুটখা, পান খাওয়া যাবে না’, কড়া বার্তা দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

State Health Minister Sharadwat Mukherjee Photo-SNS

স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। এবার আরও বড় পদক্ষেপের পথে হাঁটলেন তিনি। কয়েকমাস আগেই স্কুল, কলেজ অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনও নতুন মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়া হবে না বলে নির্দেশিকা দিয়েছিল রাজ্য সরকার। এবার হাসপাতালের ১০০ গজের মধ্যে বিড়ি,পান, সিগারেট, গুটখা-সহ কোনও নেশার দ্রব্যের দোকানের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে রবিবার সাফ জানিয়ে দিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। এই কথা ঘোষণার পর থেকেই জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে।

বহু সরকারি হাসপাতালের কাছেই পান, বিড়ি, সিগারেট, গুটকা এবং মদের দোকান দেখতে পাওয়া যায়। এতে হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট হয়। শুধু তাই নয়, হাসপাতালের কোনও কর্মী যদি নেশা করে ডিউটি করেন তাতে রোগীর ক্ষতি হতে পারে। এই সার্বিক চিন্তাভাবনা করেই এবার এমন কড়া পদক্ষেপ করা হলো বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিষয়ে রবিবার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বলেন, ‘হাসপাতাল চত্বরের একশো গজের মধ্যে কোনও পান, বিড়ি, সিগারেট, গুটখা, মদের দোকান থাকবে না। এটা আইনে আছে। আমরা দেখে নিয়েছি। সেটাকে কঠোরভাবে এবার কার্যকর করা হবে। হাসপাতালের মধ্যে গুটখা, পান খাওয়াও যাবে না।’

এদিকে হাসপাতালের অন্তর্বিভাগ অথবা আইপিডিতে যাঁরা থাকবেন, তাঁরা মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন না বলেও জানিয়েছেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। স্বাস্থ্যকর্মী, নার্সরা মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য। তবে আইপিডিতে মহিলা রোগী থাকলে তাঁদের যেন ছবি তোলা না হয় তার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শালীনতা বজায় রাখার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে সাফ জানিয়ে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।


অন্যদিকে গত শুক্রবার তিনদিনের জন্য পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সফরে গিয়েছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ওই জেলার চারটি মহকুমায় একাধিক হাসপাতাল পরিদর্শন করেন তিনি। রবিবার তমলুকের নিমতৌড়িতে জেলাশাসকের দপ্তরের জেলার দু’টি স্বাস্থ্য জেলা পূর্ব মেদিনীপুর এবং নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার আধিকারিক, জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, হলদিয়ার বিধায়ক প্রদীপ বিজলী-সহ অন্যান্য আধিকারিককে নিয়ে বৈঠক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। জেলার হাসপাতালগুলিতে পরিচ্ছন্নতা, অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা সঠিক রাখা, রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক রাখা নিয়ে নানা নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হাসপাতালগুলি পরিদর্শন করলাম। একটা রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। প্রথমে আমরা সাবধান করলাম। আগামী দিনে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স থেকে কর্মীদের বদল না হলে এবং হাসপাতাল থেকে দালালচক্র বন্ধ না হলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে।’