বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে সারপ্রাইজ ভিজিট, রেজিস্টার খাতা খতিয়ে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

State Health Minister Sharadwat Mukherjee Photo-SNS

প্রত্যেক জেলার হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার জন্য বারবার জেলাওয়াড়ি সফর করছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। রোগীরা কেমন পরিষেবা পাচ্ছেন থেকে শুরু করে হাসপাতালের পরিবেশ সবই দেখছেন তিনি। এবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী পৌঁছে গেলেন বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে। বুধবার বালুরঘাটে একগুচ্ছ কর্মসূচি নিয়ে পৌঁছে গিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার সঙ্গে সেখানে গিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীও। এদিন সকাল ১০টা নাগাদ রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তরের প্রধান সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে ঢোকেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ দাস, হাসপাতাল সুপার অনঘ বন্দ্যোপাধ্যায়, বালুরঘাটের বিধায়ক বিদ্যুৎ রায়, তপনের বিধায়ক বুধরাই টুডু-সহ অন্যান্যরা।

এদিন বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ঢুকেই সরাসরি রোগীদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে আসার কর্মসূচি আগে থেকে ঠিক ছিল না। এটা সম্পূর্ণ সারপ্রাইজ ভিজিট। এখানে এসেই পরিষেবা কেমন, চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহার কেমন, একাধিক প্রশ্ন রোগীদের করেন শারদ্বত। রোগীরাও উত্তর দেন সন্তোষজনক। আর তা শোনার পরই রসিকতার সুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, ‘আপনাদের কেউ শিখিয়ে দেয়নি তো? একজন সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা লোক আসবে। আর সে যা জিজ্ঞেস করবে সবই ভাল ভাল বলতে হবে?’ রসিকতা করলেও চাপে পড়ে যান উপস্থিত চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা।

এখানে রোগীদের সঙ্গে কথা বলার পর ইমার্জেন্সি বিভাগে পৌঁছে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে গিয়ে রেজিস্টার খাতা খতিয়ে দেখেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোন রোগীকে কী ওষুধ দেওয়া হয়েছে, কী ধরনের চিকিৎসা চলছে সেসব নিয়ে যাবতীয় খুঁটিনাটি প্রশ্ন করতে থাকেন। একইসঙ্গে সবকিছু যাচাই করেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। নার্স ও চিকিৎসকদের সরাসরি বেশ কিছু প্রশ্ন করেন তিনি। এমনকী ইমার্জেন্সিতে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে কোনও প্রসূতি এলে কী করা হয়? সে প্রশ্নও করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এভাবে প্রশ্নের মুখে পড়ে ঘাম মুছতে শুরু করেন চিকিৎসকরা। তবে সব প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দেন তাঁরা। তাতে বেশ সন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।


তাছাড়া হাসপাতালের তিনতলা ভবন থেকে সুপার স্পেশালিটি বিল্ডিং, নানা বিভাগ ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতালের ডায়ালিসিস বিভাগে চিকিৎসক না থাকাটিও তাঁর নজরে এড়ায়নি। হাসপাতাল চত্বরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়েও কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করেন শারদ্বত। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সারা বছর নানা জায়গায় আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। তাই হাসপাতাল চত্বর ঝাঁ-চকচকে থাকে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, ‘আমি আসার আগেই কি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে?’ যদিও পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালের পরিষেবা যা দেখলাম সেটা দেখে বলব এক্সেলেন্ট। কিছু কিছু জায়গায় আমার সন্দেহ হয়েছে, এত ভাল কী করে হলো? তবে যে পরিষেবা দেখলাম, সেখান থেকে কিছু নম্বর কেটে দিলেও গুড বলতে হবে।’