রাজ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে জনকল্যাণ শিবির। টানা তিনদিন তা চলবে। শহর থেকে জেলা সর্বত্র এই শিবির বসেছে। যেখানে মানুষ গিয়ে নানা প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। আবার বিপুল পরিমাণ মানুষ ফর্ম পূরণ করছেন নানা প্রকল্পের। এই আবহে বাড়ানো হলো জনকল্যাণ শিবিরের সময়সীমা। মানুষের ভিড় দেখেই তা বাড়ানো হয়েছে বলে খবর।
বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলায় শুরু হয়েছে ‘জনকল্যাণ শিবির’। রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ৫৫টি প্রকল্পের পরিষেবা দেওয়ার জন্য এই শিবির গড়ে তোলা হয়েছে। প্রত্যেকটি শিবিরেই উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়। কিন্তু তার পরও এই শিবিরগুলিতে মানুষের আসা থামছে না। বুধবার ছিল জনকল্যাণ শিবিরের শেষদিন। কিন্তু মানুষের দাবিতে বাড়িয়ে দেওয়া হলো সময়সীমা। জনসাধারণের সুবিধার্থে আরও একদিন বাড়ানো হলো জনকল্যাণ শিবিরের সময়সীমা। আগামী ১৮ জুন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ‘জনকল্যাণ শিবির’ চলবে।
এই খবর চাউর হতেই আনন্দে মেতে উঠেছেন সাধারণ মানুষজন। এবার আবার সেখানে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতার ফর্ম পূরণ করা যাবে। সুতরাং বৃহস্পতিবারও ভিড়ের স্রোত আছড়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। ওই দিনও অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প পাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। এই তিনদিনে অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বা যোজনার চেয়ে আয়ুষ্মানেই বেশি আগ্রহ দেখাল মানুষজন। আয়ুষ্মান ভারত ও অন্নপূর্ণা যোজনা এই দু’টি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতেই শহর ও গ্রামবাংলার শিবিরগুলিতে দিনভর দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে। তীব্র রোদ ও প্রচণ্ড গরমে ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে লাইন দেয় মানুষ। মহিলাদের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি।
এছাড়া রাজ্যে মোট ১১০০ শিবিরের আয়োজন করা হয়। তবে অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান প্রকল্প-সহ নানা প্রকল্পের জন্য একাধিক শিবিরে সকাল থেকে বেলা পর্যন্ত লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে। একাধিক প্রকল্পের ফর্ম পূরণ, নথিভুক্তিকরণ এবং যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করার জন্য এই শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। কলকাতা এবং জেলায় জনকল্যাণ শিবিরে ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় সরকারি কর্মীদের। বিধায়কের নির্দেশে বিজেপি কর্মীরাও এই কাজে মানুষকে সাহায্য করতে নেমে পড়েছেন। এদিন সঠিক রেজিস্ট্রেশন টেবিলে পৌঁছে দেন শিবিরে আসা মানুষজনকে। বিজেপি কর্মীরা বলেন, কোন শিবিরে কোন টেবিলে কোন যোজনা বা প্রকল্পের রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে তা চিহ্নিত করে মানুষকে পাঠানো হয়েছে। এই শিবিরে আসা বয়স্কদের জলের ব্যবস্থা করা, বাড়ি ফেরার জন্য টোটোর ব্যবস্থা করে দেওয়াও হয়েছে। মানুষকে সাহায্য করতে নানা পুরসভার কর্মীদেরও কাজে লাগানো হয়েছে।