সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলে গরমের ছুটি বাড়ালো রাজ্য সরকার, ১ জুন খুলবে স্কুল

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত সমস্ত স্কুলে গরমের ছুটি বাড়ানো হল। স্কুলশিক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৩১ মে পর্যন্ত সমস্ত স্কুল বন্ধ থাকবে। ১ জুন থেকে পুনরায় পঠনপাঠন শুরু হবে। গত ১১ মে থেকে শুরু হয়েছিল গ্রীষ্মকালীন ছুটি। আগে ঠিক ছিল ১৮ মে স্কুল খোলা হবে। স্কুলশিক্ষা দপ্তর সূত্রের খবর,  মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে স্কুলশিক্ষা দপ্তরের সচিবের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উল্লেখ্য, চলতি বছরের গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হয়েছিল ১১ মে থেকে। রাজ্যে ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ ও অস্বাভাবিক গরমের কারণে ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করেই ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

গত কয়েক বছরে রাজ্যে গরমের ছুটির সময়সীমা বারবার বাড়াতে হয়েছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এক মাসের নির্ধারিত ছুটি অনেক সময় দেড় মাস পর্যন্ত গড়িয়েছে। সেই কারণেই চলতি বছরের বার্ষিক ক্যালেন্ডারে গরমের ছুটি কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ২০২৬ সালের শিক্ষাবর্ষে ঘোষণা করেছিল, আগের বছরের তুলনায় পাঁচ দিন কম ছুটি থাকবে।

এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষও দেখা দিয়েছিল। তাঁদের মতে, গ্রীষ্মপ্রধান রাজ্যে গরমের ছুটি কমানো বাস্তবসম্মত নয়। কারণ গত কয়েক বছর ধরে অতিরিক্ত গরমের জেরে বারবার আগেভাগেই স্কুলে ছুটি ঘোষণা করতে হয়েছে। কিন্তু পর্ষদ প্রাথমিক ভাবে ঘোষণা করেছিল ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ১১ মে থেকে ১৬ মে ছুটি থাকবে। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে এই ছুটি দেওয়া হয়েছিল ১২ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত। শিক্ষকদের একাংশ দাবি করেছেন, গত কয়েক বছরে বেশ কিছু ছুটি নতুন করে তালিকাভুক্ত হয়েছে।


এছাড়াও নতুন করে বিভিন্ন পালনীয় দিনকে ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছিল। বিশেষত রবীন্দ্রজয়ন্তীর মতো সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন দিনেও ছুটি ঘোষণার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল শিক্ষামহলে। আবার অনেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলে জানিয়েছিলেন, গ্রীষ্মের ছুটি ঘোষণা করেন তিনিই। তাই ক্যালেন্ডারে ছুটি কমিয়ে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছিল।