রাজ্যের স্কুল শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের জন্য সুখবর নিয়ে এল বিজেপি সরকার। প্রায় চার বছর বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে চলেছে অনলাইন বদলি বিষয়ক পোর্টাল ‘উৎসশ্রী’। নবান্ন সূত্রে খবর, বুধবার ১ জুলাই থেকেই এই পোর্টালের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অশিক্ষক কর্মীরা সব ধরনের বদলির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে খুশির হাওয়া রাজ্যের শিক্ষামহলে। কারণ শিক্ষকরা আবার আবেদন করতে পারছেন বলে স্কুলশিক্ষা দপ্তর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
এদিকে স্কুলশিক্ষা দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ‘উৎসশ্রী’ পোর্টালের মাধ্যমে বদলির আবেদনগ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। পরে স্কুলগুলিতে শিক্ষক এবং গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণেও অনেকদিন সেটা বন্ধ ছিল। বুধবার থেকে শিক্ষকরা নিয়ম মেনে সব ধরনের বদলির আবেদন অনলাইনে করতে পারছেন। শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, এখন স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থিতিশীল পর্যায়ে আছে। তাই বদলি প্রক্রিয়ার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল সেটা বহাল রাখার আর কোনও যৌক্তিকতা নেই। সুতরাং উৎসশ্রী পোর্টালের উপর থাকা পূর্ববর্তী সমস্ত স্থগিতাদেশ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের জমানায় বিষয়টি চালু হলেও তা থমকে যায়। যা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। স্কুল সার্ভিস কমিশন (জেনারেল ট্রান্সফার, ট্রান্সফার অন স্পেশাল গ্রাউন্ড অ্যান্ড রি-অ্যালোকেশন) বিধি, ২০১৫ সালের আইন অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বদলির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অশিক্ষক কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকেই পোর্টালটি পুরোপুরি কাজ করা শুরু করেছে। এদিন থেকেই শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অশিক্ষক কর্মীরা বদলির আবেদন জমা দিতে পারবেন।
তাছাড়া বহুদিনের অচলাবস্থা কেটে যাওয়ায় যে সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা বা শিক্ষাকর্মী বাড়ির থেকে দূরে চাকরি করছিলেন এবং বদলির অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন তাঁদের জন্য এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে বড় সুখবর। এই বিষয়ে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘বহুবার আবেদন করার পর অবশেষে পোর্টালে আবেদন নেওয়া শুরু হল। ২০২১ সাল থেকে যাঁদের আবেদনের মীমাংসা হয়নি, তাঁদের বদলি আগে না হলে আবার আইনি জটিলতা হবে বলে আমরা মনে করি।’ আর অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াইয়ের প্রতিক্রিয়া, ‘বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতেন। সেই অবস্থা থেকে দ্রুত মুক্তি হবে মনে হচ্ছে।’