কলঙ্ক মুছে নিয়োগ ব্যবস্থায় আস্থা ফেরাতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্যের শুভেন্দু অধিকারী সরকার। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও সম্পূর্ণ মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করা হল প্রাক্তন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে। শনিবার নারিয়ালার নিয়োগের কথা জানান খোদ মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর দাবি, অতীতের বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার অবসান ঘটিয়ে এবার ইউপিএসসি-র ধাঁচে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তোলা হচ্ছে।
শনিবার সন্ধ্যায় সমাজমাধ্যমে নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যবাসীর কাছে সরকারের স্পষ্ট অঙ্গীকার ছিল নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করা হবে। নিয়োগ কমিশনগুলিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা হবে। বাজেট বক্তৃতাতেই শূন্যপদে নিয়োগের ঘোষণা করার সময় সরকার জানিয়েছিল, নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও কমিটির শীর্ষপদে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থাকবেন না। সেই প্রতিশ্রুতিই এবার কার্যকর করা হল বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রবীণ আইএএস আধিকারিক দুষ্মন্ত নারিয়ালার হাতে কমিশনের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের মুখ্যসচিবের দায়িত্বও সামলেছিলেন তিনি।
সরকারের বক্তব্য, নতুন ব্যবস্থায় চাকরি পাওয়ার একমাত্র মানদণ্ড হবে মেধা ও যোগ্যতা। কোনও রাজনৈতিক সুপারিশ, পক্ষপাত বা অসদুপায়ে নিয়োগের সুযোগ থাকবে না। অতীতের দুর্নীতিগ্রস্ত নিয়োগ সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি রুখতেই প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে দাবি নবান্নের।
তৃণমূল জমানায় শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে পুরসভা-সহ একাধিক সরকারি চাকরিতে দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্য জুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সব ঘটনায় আদালতের হস্তক্ষেপ, তদন্ত এবং একের পর এক নিয়োগ বাতিলের ঘটনায় দেশের সামনে বাংলার ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নিয়োগ ব্যবস্থাকে নতুন করে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাকেই অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে বর্তমান বিজেপি সরকার।
মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের অধিকার সুরক্ষিত করা, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তাঁদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। দুষ্মন্ত নারিয়ালার নিয়োগ সেই লক্ষ্যপূরণের পথেই একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রতীকী পদক্ষেপ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।