কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠ যেতে চলবে বিশেষ ট্রেন, লাগামছাড়া ভাড়া হোটেলে

Tarapith Temple Crowd Photo-SNS

কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে ভক্তদের ঢল নামবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু সেখানে পৌঁছনো এবং থেকে পুজো দেওয়ার ক্ষেত্রে দুটি বিষয় সামনে এসেছে। একটি সুখকর, অপরটি দুঃখের। বৃহস্পতিবার তারাপীঠে পুজো। তাই পুণ্যার্থীরা আগে থেকেই আসতে শুরু করেছেন। সুতরাং ভিড় যে বাড়বে সেটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। এই কারণে ভক্তদের সুবিধার্থে বিশেষ অতিরিক্ত ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল। এটি সুখকর ব্যাপার। আর দুঃখের বিষয়-তারাপীঠের হোটেল, লজগুলি লাগামছাড়া ভাড়া চাইছে পুণ্যার্থীদের কাছে। সরকারি নির্দেশ এবং প্রশাসনিক সতর্কবার্তা এখানে সেভাবে কাজ করছে না বলেই অভিযোগ। এমনকী অলিখিত ‘তিনদিনের প্যাকেজ’ বাবদ দেদার অর্থ দাবি করা হচ্ছে ঘরভাড়া নিয়ে বলে অভিযোগ।

রেল সূত্রে খবর, আগামী ১০ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাওড়া থেকে রামপুরহাট এবং রামপুরহাট থেকে হাওড়া বিশেষ ট্রেন চলবে। এমনকী রামপুরহাটগামী একাধিক ট্রেনেরও কোচ বাড়ানো পর্যন্ত হচ্ছে। শিয়ালদহ থেকে রামপুরহাট বিশেষ ট্রেন চালানো হোক এমন দাবিও উঠেছে। রেলের কাছে এই দাবি করেছে তারাপীঠ মন্দির কর্তৃপক্ষ। ১০ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর আপ-ডাউনে একজোড়া বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। হাওড়া স্টেশন থেকে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ট্রেন ছাড়বে। ওই ট্রেন বিকেল সাড়ে ৫টায় পৌঁছবে রামপুরহাটে। রামপুরহাট থেকে হাওড়া ট্রেন সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় ছাড়বে। সেই ট্রেন হাওড়ায় পৌঁছবে রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে।

কিন্তু ট্রেনের সুখ মিললেও হোটেলের সুখ অধরা থাকছে অনেকের কাছে বলে অভিযোগ। প্রশাসন নির্দেশিকা দিলেও তা মানছে না বহু অসাধু হোটেল ব্যবসায়ীরা বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার কৌশিকী তিথি শুরু হচ্ছে এবং তা থাকবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত। পরদিন শনিবার ও রবিবার ছুটি। ২০২৬ সালে সপ্তাহান্তে এই তিথি পড়ায় প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ মানুষের ভিড় হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। আর এই বিপুল জনসমাগমের সুযোগকেই হাতিয়ার করেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। সাধারণ দিনে যে সিঙ্গল এসি ঘরের ভাড়া ৮০০ টাকা, কৌশিকী অমাবস্যার সময় চাওয়া হচ্ছে এক রাতে প্রায় ৬ হাজার টাকা। আর ডবল বেডের ঘরের তিনদিনের প্যাকেজ ভাড়া পৌঁছেছে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায়। একদিন বা দু’দিনের জন্য ঘর চাইলে পর্যটকদের সোজাসুজি বলে দেওয়া হচ্ছে ঘর খালি নেই। এমন অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন বহু পুণ্যার্থী।


তাছাড়া বুধবার থেকেই একাধিক ট্রেনে দ্বিতীয় শ্রেণির কোচ বাড়ানো হচ্ছে। আগামী ১৩ তারিখ পর্যন্ত হাওড়া–জামালপুর কবিগুরু এক্সপ্রেসে একটি করে দ্বিতীয় শ্রেণির কোচ থাকবে। ১০ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর জামালপুর–হাওড়া কবিগুরু এক্সপ্রেসেও বিশেষ কোচ থাকবে। ১১ তারিখ শুক্রবার রামপুরহাট থেকে পুণ্যার্থীদের ফেরার চাপ থাকবে বলে হাওড়া–রামপুরহাট–হাওড়া শহিদ এক্সপ্রেসে আরও একটি দ্বিতীয় শ্রেণির কামরা রাখা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কারণ তারাপীঠে এখন কোনও হোটেল অ্যাসোসিয়েশন নেই। এই ঘটনা সামনে আসতেই কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন রামপুরহাটের মহকুমাশাসক অশ্বিন বি রাঠোর।