বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলায় বিশেষ আইনজীবী নিয়োগ, দ্রুত বিচারের আশায় সুটিয়া

পুত্র বরুণের ছবির সঙ্গে অসহায় বাবা

বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের তদন্ত হঠাৎই নতুন গতি পেয়েছে। বিচার দ্রুত শেষ করার জন্য রাজ্য সরকার দেবরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশেষ সরকারি আইনজীবী নিয়োগ করেছে। শুক্রবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের ৩৭তম দিনেই এই ঘোষণা আসে। এতদিন চুপচাপ আটকে থাকা বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য হতাশ হয়ে পড়েছিল বরুণের পরিবার আর সুটিয়ার সাধারণ মানুষ। এবার নতুন করে আশার আলো দেখছেন সবাই।

কিছুদিন আগে বরুণের দাদা অসিত বিশ্বাস ও দিদি প্রমিলা রায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন। পরিবারের দাবি, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে দ্রুত এবং নিরপেক্ষ বিচার চাইতে বলেন। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, তারপরই বিশেষ সরকারি আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

২০১২ সালের ৫ জুলাই গোবরডাঙা স্টেশনের বাইরে স্কুল থেকে ফিরে বরুণ বিশ্বাস গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তখন তিনি কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনে বাংলা পড়াতেন। বাম আমলে সুটিয়া গণধর্ষণ কাণ্ডে বরুণ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন। তাঁর খুন সেই সময় সারা রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।


বিশ্বাস পরিবারের অভিযোগ, গত ১৪ বছরে তদন্ত আর বিচার একেবারে ধীরগতিতে চলেছে। এখনও হত্যাকারীদের পুরো পরিচয় সামনে আসেনি। পরিবারের আরও দাবি, সেই সময়ের অনেক রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের নামও উঠে এসেছিল, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কিছু হয়নি।

আদালত সূত্রে জানা গেল, মোট ৭৬ জন সাক্ষী থাকার কথা। তার মধ্যে ৩৭ জন ইতিমধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আগামী ৩১ আগস্ট বরুণের ৮৫ বছর বয়সী বাবা জগদীশচন্দ্র বিশ্বাস সাক্ষ্য দেবেন। আট অভিযুক্তের মধ্যে একজন বিচার চলাকালীন মারা গিয়েছেন, আর এক নাবালক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেই জুভেনাইল আদালতে রায় হয়েছে।

বিশ্বাস পরিবার আর সুটিয়ার মানুষ এখন আশায় বুক বাঁধছেন, বিশেষ সরকারি আইনজীবী নিয়োগ হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া এবার তাড়াতাড়ি এগোবে।

নতুন আইনজীবী নিয়ে প্রমিলা রায় বিশ্বাস বলেন, ‘‘আগের আইনজীবী একেবারেই আমাদের সাহায্য করেননি। উল্টে বাধা দিয়েছিলেন। তিনি শিখিয়ে দিতেন কী বলতে হবে, বাবা নিজের মত কিছু বলতে চাইলেও আটকাতেন। এবার নতুন আইনজীবী পেয়েছি, আশা করছি এবার বিচার পাবো। বাবাকে ডাকা হলে, যদি তিনি সুস্থ থাকেন, আমি বাবাকে নিয়েই আদালতে যাব, তিনি সাক্ষ্য দেবেন।’’

বিশ্বাস পরিবারের দাবি, সুটিয়া গণধর্ষণ আর বরুণ হত্যার আসল অভিযুক্তরা এখনো আইনের বাইরে। অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম বহুবার এসেছে, তবু তদন্ত হয়নি। এবার নতুন সরকারি আইনজীবী দায়িত্ব নিয়েছেন, তাই পরিবার আর গ্রামবাসীরা নতুন করে স্বস্তি আর আশায় বুক বাঁধছেন।