একাধিক অভিযোগ আগেই উঠেছিল। এমনকী সেইসব অভিযোগের ভিত্তিতে তিহাড় জেলে বন্দিদশাও কাটিয়েছেন তিনি। তারপর বিধানসভা নির্বাচনে দল হেরে যেতে শিবির বদল করেছেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একরাশ অভিযোগ তুলে এখন তিনি ভাল তৃণমূল হয়েছেন। কিন্তু তারপরও বিপদ পিছু ছাড়ছে না। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের বিরুদ্ধে সিউড়ি থানা এখন তদন্তে নেমেছে। হ্যাঁ, তিনি বিদ্রোহী শিবিরের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। আদালতের নির্দেশে শুরু হয়েছে এই তদন্ত। সিউড়ি সিজেএম আদালতে এই মর্মে রিপোর্ট জমা দিয়েছে সিউড়ি থানার পুলিশ। অনুব্রত মণ্ডল, জীবনকৃষ্ণ সাহা-সহ মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে সিউড়ি থানার পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গের দুটি জামিনঅযোগ্য ধারাও রয়েছে।
অনুব্রত মণ্ডল কদিন আগে বলেছেন, তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য জেলে গিয়েছিলেন। এমনকী রাজ্য সরকারকে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে দিতেন। এখন সদাইপুর থানার সাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা কল্যাণ ঘোষ গত ১১ জুন সিউড়ির সিজেএম আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি। সরাসরি যাঁরা টাকা নিয়েছিলেন তাঁরা প্রসেনজিৎ ঘোষ, তন্দ্রা ঘোষ ও উত্তম ঘোষ। এই টাকা নেওয়ার ক্ষেত্রে যাঁদের নাম ভাঙিয়ে এই কাজ হয়েছিল তাঁরা হলেন, তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল, বড়ঞাঁর প্রাক্তন বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা এবং বীরভূম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের তৎকালীন সভাপতি রাজা ঘোষ। মোট ৬জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এই অভিযোগ আদালত পাওয়ার পর সিউড়ি থানাকে তদন্ত করে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ১৯ জুন এবং ২ জুলাই দুটি তারিখে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশ রিপোর্ট জমা করেনি। তাই বিচারক আবারও সিউড়ি থানাকে আগামী ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে রিপোর্ট জমা করার নির্দেশ দেন। ওই সিউড়ি থানার জমা দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশেই শুরু হয়েছে মামলা।
আদালত সূত্রে খবর, অভিযোগকারী কল্যাণ ঘোষ এবং তাঁর আত্মীয়ের কাছ থেকে জীবনকৃষ্ণ এবং অনুব্রত ঘনিষ্ঠ তিন ব্যক্তি ২০১৭ সালে দফায় দফায় প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা নেয় প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য। এমনকী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ থেকে সরকারি নিয়োগপত্রও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও পোস্টিং মেলেনি। বরং ওই পরিবারকে বলা হয়, নির্দিষ্ট অঙ্কের আরও কিছু টাকা দিলে তবেই পোস্টিং পাবেন তাঁরা। তখন ২০১৭ সালে এই নিয়ে সিউড়ি থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নেয়নি বলে অভিযোগ। ২০২৬ সালের ১১ জুন অনুব্রত মণ্ডল, জীবনকৃষ্ণ সাহা, বীরভূম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের তৎকালীন সভাপতি রাজা ঘোষ-সহ মোট ৬ জনের নামে সরাসরি আদালতে অভিযোগ করেন কল্যাণ ঘোষ। এই অভিযোগের শুনানিতে সিউড়ি থানার পুলিশের কাছে রিপোর্ট চায় বীরভূমের সিউড়ি সিজেএম আদালত। তারপরই গত ১৭ জুলাই মামলা দায়ের করে পুলিশ।