নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই রাজ্যে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। রাজ্যজুড়ে বিচ্ছিন্নভাবে যে অশান্তির ঘটনা ঘটেছে, তাতে এসআইআর-এর মূল কাজে কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি বলেই নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে। কমিশনের মতে, সামগ্রিকভাবে রাজ্যে এসআইআর-এর কাজ পরিকল্পনামাফিকই এগোচ্ছে।
সূত্রের খবর, ৫ জানুয়ারি থেকে রাজ্য নির্বাচন দপ্তরের তরফে নিয়মিতভাবে যে রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর কথা, চলতি সপ্তাহের রিপোর্টে এসআইআর-এর শুনানিকে কেন্দ্র করে যে গন্ডগোল ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে, তার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখতেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগারওয়ালকে একদিনের ঝটিকা সফরে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।
সোমবার দীর্ঘ সময় ধরে কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর আগামী দিনে কীভাবে রাজ্যে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে এসআইআর-এর কাজ সম্পন্ন করা যাবে, তা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। একই সঙ্গে আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভোটকেন্দ্রের বিন্যাস এবং বুথ পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়েও বিস্তর আলোচনা হয়েছে।
এই বৈঠকের পরই কমিশনের নির্দেশে মঙ্গলবার থেকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে শুরু হতে চলেছে বিশেষ পর্যবেক্ষণের কাজ। সদ্য নিয়োগ হওয়া চারজন স্পেশাল রোল অবজারভারের নেতৃত্বে এই পর্যবেক্ষণ চলবে। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন মোট চল্লিশ জন মাইক্রো অবজারভার। কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, এই গোটা পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া সরেজমিনে খতিয়ে দেখবেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগারওয়াল নিজেই।
পর্যবেক্ষণের আওতায় আসবে এসআইআর-এর জন্য এখনও পর্যন্ত যাঁদের শুনানিতে ডাকা হয়েছে এবং তাঁরা যে সমস্ত নথি জমা দিয়েছেন, তার প্রতিটি দিক। চারজন স্পেশাল রোল অবজারভার, মাইক্রো অবজারভার এবং রাজ্যের নির্বাচন দপ্তরের আধিকারিকরা মিলিয়ে ওই নথিগুলি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করবেন। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে কতটা মানা হয়েছে, সেটাই এই পর্যবেক্ষণের মূল লক্ষ্য।
কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই পর্যবেক্ষণে যদি কোথাও ব্লক লেভেল অফিসার, সহকারী নির্বাচনী রেজিস্ট্রেশন আধিকারিক বা নির্বাচনী রেজিস্ট্রেশন আধিকারিকদের কোনও গাফিলতি ধরা পড়ে, তাহলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে শাস্তিমূলক পদক্ষেপও করা হবে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
সব মিলিয়ে, রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে কোনওরকম শিথিলতা বরদাস্ত করতে রাজি নয় নির্বাচন কমিশন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশন যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, এই পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়াতেই তার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।