ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া (এসআইআর) ঘিরে ওবিসি শংসাপত্রের বৈধতা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, এবার তার অবসান ঘটাল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। কলকাতা হাই কোর্টের রায় অনুসরণ করে জারি করা বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোন সময়ের ওবিসি শংসাপত্র এসআইআর প্রক্রিয়ায় গ্রহণযোগ্য এবং কোনগুলি বাতিল বলে গণ্য হবে।
নির্বাচন দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইস্যু হওয়া ওবিসি শংসাপত্রগুলিকে আদালতের নির্দেশ অনুসারে বৈধ দলিল হিসেবে মান্যতা দেওয়া হবে। এর ফলে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন, সংশোধন কিংবা আপত্তি জানানোর ক্ষেত্রে এই শংসাপত্রের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে। একই সঙ্গে রাজ্যের সমস্ত জেলা নির্বাচন আধিকারিক এবং ইআরও-দের আদালতের নির্দেশ কঠোরভাবে মানার জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, কলকাতা হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ২০১০ সালের আগে ইস্যু হওয়া ওবিসি শংসাপত্র ৬৬টি নির্দিষ্ট শ্রেণির ক্ষেত্রে বৈধ নয়। সেই কারণেই ২০১০ সালের আগের কোনও ওবিসি শংসাপত্র এসআইআর প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করা হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশের পর রাজ্য সরকার নতুন করে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির তালিকা নির্ধারণের জন্য সমীক্ষা চালায় এবং তার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ওই নতুন তালিকার উপর নির্ভর করেই ২০১০ সালের পর থেকে ইস্যু হওয়া ওবিসি শংসাপত্রগুলিকে আইনগতভাবে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনও ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর এসআইআর ২০২৬-এর ক্ষেত্রে এই নথিভিত্তিক ওবিসি শংসাপত্র গ্রহণের অনুমোদন দেয়।
প্রশাসনিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ওবিসি পরিচয়ের ভিত্তিতে যাঁরা দাবি বা আপত্তি জানাচ্ছেন, তাঁদের আর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হবে না। আদালতের নির্দেশ মেনে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বয়ে নেওয়া এই পদক্ষেপ ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও আইনগত ভাবে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।