শুভেন্দুর বৈঠক ঋতব্রত-সন্দীপনের পাশাপাশি কুণাল-ববি-নয়না

কয়েকদিন ধরেই চর্চায় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন। একপক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী, অন্যপক্ষে বহিষ্কৃত সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা এবং অন্যান্য বিধায়করা। সই জাল ঘটনায় পুরো আড়াআড়ি ভাবে বিভক্ত হতে দেখা গিয়েছে তৃণমূলকে। গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বেশ কয়েকজন বিধায়ককে ধর্মতলায় ধরনায়ও দেখা যায়। তবে আজ সকালে থেকেই চিত্রনাট্য একদম বদলে গিয়েছে। বুধবার সকালে ৫৮ জন বিধায়ককে নিয়ে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা বিধানসভায় যান। বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘোষণা করা হয়।

এরপরই নবান্নের প্রশাসনিক বৈঠকে দেখা যায় তৃণমূলের দুইপক্ষের বিধায়কদের। তৃণমূলের দুই শিবির কোথাও যেন মিলে গেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে। তাঁর ডাকা এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির হলেন, ‘বিদ্রোহী’ এবং মমতাপন্থী’ দুই তৃণমূলই।


কলকাতা, হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার প্রশাসনিক বৈঠক ডাকা হয় নবান্নের সভাঘরে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা মত, এদিন বিরোধী শিবিরের বিধায়কদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয় ওই বৈঠকে। ঋতব্রতের নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ শিবির বৈঠকে যোগ দেয়। ঋতব্রত মঙ্গলবারই জানিয়েছিলেল, ওই জেলাগুলির তৃণমূল বিধায়করা প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেবেন। আজ বিধানসভায় স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দেওয়ার পর নবান্নে যান বিক্ষুব্ধ শিবিরের ৫৮ জন বিধায়কই।

তবে এদিন ঋতব্রতরা ছাড়া কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিমরাও মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে উপস্থিত হন। যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গতকালও ধরনায় ছিলেন তাঁরাও মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা ওই বৈঠকে আজ হাজির হন। তৃণমূল যদি দুই শিবিরে ভাগ হয়ে থাকে, তাহলে দুই শিবিরই আজ নবান্নের প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির ছিলেন।

নবান্নে ঢোকার সময় কুণাল ঘোষ বলেন, আমি একজন নির্বাচিত বিধায়ক। মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠকে ডেকেছেন। তাই বিরোধী দলের একজন বিধায়ক হিসেবে এসেছি। তবে এর আগে প্রশাসনিক বৈঠকে কখনও বিরোধী বিধায়কদের দেখা যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলের মত।