মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে শুভেন্দু, প্রস্তুতি শুরু শিলিগুড়িতে

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম উত্তরবঙ্গে প্রশাসনিক সফরে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে শিলিগুড়ি এবং বাগডোগরা সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। নবান্ন সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গের সচিবালয় উত্তরকন্যায় এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করবেন শুভেন্দু অধিকারি। আর এই সফরকে নিশ্ছিদ্র করতে প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল— সর্বত্রই সাজ সাজ রব। রাস্তার ধারে ব্যানার পোস্টার লাগানো  হয়েছে। সাজানো হয়েছে উত্তরকন্যাকে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ‘উত্তরকন্যা’-র প্রশাসনিক সভাঘরে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি হবে। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং এবং কালিম্পং, এই পাঁচটি জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলার খতিয়ান নিতে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার এই প্রথমবার উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বৈঠকের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারি ছাড়াও বৈঠকে থাকবেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক।

মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের পথে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট। সফরসূচি অনুযায়ী, বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে মুখ্যমন্ত্রী সড়কপথে উত্তরকন্যায় পৌঁছবেন। ভিভিআইপি কনভয়ের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ওই নির্দিষ্ট রুটে কড়া ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ট্রাফিক ডিসিপি কাজী শামসুদ্দিন আহমেদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে রাস্তার দু’ধারে বাঁশের ব্যারিকেড দেওয়ার কাজ শুরু হয়।


মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম উত্তরবঙ্গ সফর হওয়ায়, তাঁকে স্বাগত জানাতে রাস্তার দু’পাশে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় হতে পারে বলে অনুমান করছেন পুলিশের শীর্ষকর্তারা। অতি উৎসাহী জনতা যাতে কোনোভাবেই কনভয়ের কাছাকাছি চলে আসতে না পারে, তার জন্য আগাম সতর্কতা হিসেবে ব্যারিকেড দেওয়া হচ্ছে। বাগডোগরা বিহার মোড়, গোঁসাইপুর, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট, শিবমন্দির মেডিক্যাল মোড়, ফাঁসিদেওয়া মোড়, কাওয়াখালি এবং নৌকাঘাট মোড় পর্যন্ত রাস্তার সংবেদনশীল অংশগুলিকে চিহ্নিত করে ব্যারিকেডে মুড়ে ফেলা হচ্ছে। ট্রাফিক ডিসিপি কাজী শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, মুখ্যমন্ত্রীর জন্য প্রোটোকল অনুযায়ী নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ক্যাটাগরি রয়েছে। সেই প্রোটোকল মেনেই পুলিশি স্তরে সমস্ত রকম প্রস্তুতি ও মহড়া চালানো হচ্ছে।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মহলেও তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার মাল্লাগুড়ির দলীয় কার্যালয়ে রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক (সাংগঠনিক) অমিতাভ চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক সম্পন্ন হয়। দলীয় সূত্রে খবর, এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সফর এবং পরবর্তী কর্মসূচির রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি, বিধানসভার অধ্যক্ষ রবীন্দ্র বসুর আগামী ২১ মে-র উত্তরবঙ্গ সফর নিয়েও এই বৈঠকে আলোচনা করা হয়। আগামী বৃহস্পতিবার অধ্যক্ষ দলীয় কার্যালয়ে আসতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।

শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অরুণ মণ্ডল জানান, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই সফরকে ঘিরে কর্মীদের মধ্যে তুমুল উৎসাহ রয়েছে। দলগতভাবে তাঁকে স্বাগত জানানোর নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী চাইলে জেলা কার্যালয়েও আসতে পারেন, তার প্রস্তুতিও করা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি মাথায় রেখে শেষ মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রীর মূল সফরসূচি বা যাতায়াতের রুটে সামান্য কিছু রদবদল ঘটলেও ঘটতে পারে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে গোটা শিলিগুড়ি শহরকে।