তৃণমূল কলকাতাকে ‘মৃত্যুপুরী’-তে পরিণত করেছে, ক্ষোভ উগড়ে দাবি শুভেন্দুর

তারাতলা দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৯ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। বুধবারের পরে বৃহস্পতিবারও সেখানে উদ্ধারকাজ চলছে। এবার এই দুর্ঘটনায় রাজ্যের তৎকালীন সরকারকে দুষলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বিধানসভা কক্ষ থেকে তিনি দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবার ও আহতদের জন্য আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। সেই সঙ্গে এই ঘটনার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত তাঁদের কাউকেই ছাড়া হবে না বলে এদিন বিধানসভা থেকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

এদিন বিধানসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী তৎকালীন সরকারকে তোপ দেগে বলেন, ‘তারাতলার দুর্ঘটনা তৃণমূলের পাপের ফল। এই ঘটনায় কাউকে রেহাত করা হবে না। যেসব ইঞ্জিনিয়ারদের নাম রয়েছে, তাঁদের ছাড়া হবে না। সব জায়গায় টাকা নিতে নিতে সিটি অফ জয়কে তৃণমূল মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে।’ এরপরেই শুভেন্দু ক্ষোভ উগড়ে বলেন, ‘এনডিআরএফ এবং সেনাকে এতদিন ঢুকতে দেননি। ভারী বিম কাটার একটা মেশিন নেই। কোনও আধুনিক যন্ত্রপাতি রাখেনি আগের সরকার।’

তৎকালীন সরকারের উদ্দেশে তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘কেন রাজ্যের এই সর্বনাশ করে গিয়েছেন আপনারা? লোহা কাটার মেশিন ১৫ বছরে বদলানো হয়নি। বিহার রেজিমেন্ট সব আধুনিক যন্ত্র নিয়ে এসেছে। সেই দিয়েই কাজ হচ্ছে। এনডিআরএফ ভগবানের দূত হিসেবে কাজ করছে। বন্দর, সিভিল ডিফেন্স, ডিএমজি একসঙ্গে কাজ করছে।’ তারাতলার দুর্ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত কলকাতা পুর বোর্ডকেও দায়ী করে  তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী।


শুভেন্দুর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। বিধানসভায় নথি দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, কাঠামোগত ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই-সহ বিভিন্ন নথির উল্লেখ করে তিনি জানান, পুরো বিষয়টির ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট সরকারের হাতে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কাটমানি ও দুর্নীতির জেরে কলকাতাকে তৎকালীন সরকার মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে। তবে তারাতলায় দুর্ঘটনার তদন্তে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন। তা্রাতলা দুর্ঘটনায় যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নির্মাণ সংস্থার সুপারভাইজার, লোহার কাঠামো প্রস্তুতকারক, জমির লিজগ্রহীতা, শ্রমিক সরবরাহকারী ও কন্ট্রাক্টর এবং পরিকল্পনা অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত এক দালাল। মূল অভিযুক্ত আজগরকে খোঁজা হচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

ঘটনার জেরে আগামী চার সপ্তাহ কলকাতা পুর এলাকা, রাজারহাট-নিউটাউন, মহেশতলা, বজবজ, পূজালি, বিষ্ণুপুর, সোনারপুর, বারুইপুর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জরুরি পরিষেবা ছাড়া সমস্ত নির্মীয়মাণ প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকবে। এই সময়ে সংশ্লিষ্ট সমস্ত অনুমোদিত নির্মাণ পরিকল্পনার অডিট হবে।