২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর কার্যত আত্মসমালোচনার মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার মাত্র ৮০টি আসনে জয় পেয়েছে ঘাসফুল শিবির। এই বিপর্যয়ের পর দলের অন্দরে শুরু হয়েছে কারণ অনুসন্ধান। তৃণমূলের নিচুস্তরের নেতা থেকে শুরু করে দলের পুরনো কর্মীদের অনেকেরই অভিযোগ, এই হতশ্রী ফলাফলের জন্য দায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতিরিক্ত আইপ্যাক নির্ভরতা।
আইপ্যাকের ‘কর্পোরেট সংস্কৃতি’ই মানুষের সঙ্গে সংগঠনের দূরত্ব বাড়িয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে যখন অভিষেকের দিকে সরাসরি আঙুল উঠছে, তখন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পাশে দাঁড়ালেন সদ্য নির্বাচিত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পাওয়ার পর রবিবার প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তিনি স্পষ্ট জানান, নির্বাচনের ফলাফলের জন্য কোনও নির্দিষ্ট নেতাকে দায়ী করা উচিত নয়।
তৃণমূলের প্রবীণ নেতা শোভনদেব বলেন, ‘অভিষেক ভোটের আগে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি একাধিক জায়গায় দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। ২০২৩-এ তাঁর নবজোয়ার যাত্রাও যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল। এবারও তিনি প্রচুর পরিশ্রম করেছেন। তা সত্ত্বেও দল হেরেছে। এই ফলাফল মেনে নিতে হবে।’
দলের ভিতরে যাঁরা এখন প্রকাশ্যে সমালোচনায় সরব, তাঁদেরও কৌশলী বার্তা দিয়েছেন বালিগঞ্জের বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, দলের প্রতি ক্ষোভ বা অসন্তোষ থাকলে তা সঠিক মঞ্চে জানানো উচিত। পরাজয়ের পরে প্রকাশ্য সমালোচনা দলকেই আরও দুর্বল করবে। শোভনদেবের কথায়, ‘সন্তান ভুল করলে তাকে ঘরের মধ্যে শাসন করতে হয়। বাইরে মাইকে ঘোষণা করে নয়। এখন যাঁরা প্রকাশ্যে এসব বলছেন, তাঁরা দলকে সত্যিই ভালোবাসেন কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।’
তৃণমূলের অধিকাংশই যেখানে আইপ্যাক নির্ভরতাকেই বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরছে, সেখানে শোভনদেবের স্পষ্ট বার্তা, দুঃসময়ে দোষারোপ নয়। বরং এই কঠিন সময়ে দলের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়াই প্রকৃত রাজনীতির পরিচয়।