ফের কড়া পদক্ষেপ নিল কমিশন। ভিডিও বৈঠকে ফুল বেঞ্চ বৈঠকে যে অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, তা-ই এ বার বাস্তবায়িত হল। গুরুতর অনিয়ম, দায়িত্বে গাফিলতি এবং আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে রাজ্যের একাধিক এইআরও- কে রবিবার সাসপেন্ড করা হয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বিশেষ স্ক্যানার চলাকালীন এই অনিয়ম ধরা পড়েছে।
কমিশনের জারি করা নির্দেশিকায় দেখা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের ৫৭ নম্বর সুতি কেন্দ্রের সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক শেখ মুরশিদ আলম, ৫৬ নম্বর সামসেরগঞ্জের ডা. সেফাউর রহমান এবং ৫৫ নম্বর ফরাক্কার রাজস্ব আধিকারিক নীতিশ দাসের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি জলপাইগুড়ির ১৬ নম্বর ময়নাগুড়ি কেন্দ্রের দালিয়া রায় চৌধুরীকেও একই অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৩৯ নম্বর ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রের দুই আধিকারিক—সত্যজিৎ দাস ও জয়দীপ কুণ্ডুকেও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে হবে এবং তার অগ্রগতি সম্পর্কে কমিশনকে জানাতে হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেই জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, ভোটার তালিকা নিয়ে যাতে ভবিষ্যতে কোনও বিতর্ক না ওঠে, সে কারণেই কমিশন শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। এই পদক্ষেপ স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—নির্বাচনী কাজে অনিয়ম ধরা পড়লে রেয়াত মিলবে না।