ফের সাত কাউন্সিলরের ইস্তফা, অচলবস্থা দেখা দিল কাটোয়া পুরসভা

আবারও এক সঙ্গে সাত জন কাউন্সিলার ইস্তফা দিলেন পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া পুরসভায়। এর আগে পুরসভার চেয়ারম্যান সহ তিন কাউন্সিলার পদত্যাগ করেছিলেন। ফলে শনিবার থেকে কার্যত অচলাবস্থা দেখা দিল পুরসভার কাজকর্মে। নাগরিকদের পরিষেবা থেকে শুরু করে কর্মীদের বেতন সব কিছুতেই সঙ্কট তুঙ্গে ।
মাত্র এক সপ্তাহ আগেই কাটোয়া পুরসভার চেয়ারম্যান  কমলাকান্ত চক্রবর্তী ইস্তফা দেন। একই সঙ্গে পদত্যাগ করেন আরও দুই কাউন্সিলার। এবার আরও সাতজন এক সঙ্গে গণ ইস্তফা দেওয়ার ফলে পুরসভার প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে অচলাবস্থা দেখা দিল। শুক্রবার রাতে কাটোয়া পুরসভার সাতজন কাউন্সিলার তাদের ইস্তফাপত্র জমা দেন কাটোয়ার মহকুমাশাসক অর্নিবান বসুর কাছে।
পর পর ইস্তফার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়ায়। বিভিন্ন মহলে বিভিন্ন আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বেশিরভাগের দাবি রাজ্যের রাজনৈতিক পালা বদলের জন্যই কাউন্সিলারদের এই সিদ্ধান্ত।  কাটোয়া পুরসভার আসন সংখ্যা ২০। তার মধ্যে ১৫ জন তৃণমূল কংগ্রেসের। বাকি ৫ জনের মধ্যে ৪ জন কংগ্রেসের এবং ১ জন নির্দল কাউন্সিলর।
পালা বদলের পর পরই দু’জন কাউন্সিলার ইস্তফা দিয়েছিলেন। তার পর পদত্যাগ করেন চেয়ারম্যান কমলাকান্ত চক্রবর্তী। শুক্রবার রাতে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সমীর সাহা, ৫ নম্বরের চন্দনা মাঝি, ৯ নম্বর ওয়ার্ড এর বিজন সাহা, ১১ নম্বরের সুমিত্রা রায় পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে ইস্তফা দেন ১৬ এবং ১৭ নম্বরের দুই কাউন্সিলর লিপিকা ঘোষ ও জিতেন চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে রেল দপ্তরের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেল হেফাজতে রয়েছেন ১৯ নম্বরের কাউন্সিলর সুফল রাজয়ার।
মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সকল কাউন্সিলর তাঁদের ব্যক্তিগত অসুবিধা এবং শারীরিক সমস্যা দেখিয়ে ইস্তফা দিয়েছেন। এরই মধ্যে দু -একজন আবার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির কথা উল্লেখ করে ইস্তফা দেন। প্রকাশ্যেই বলেছেন ‘মানুষ আমাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন, তাই আমরা পদত্যাগ করেছি। ‘
এদিকে একসঙ্গে এতজন কাউন্সিলর ইস্তফা দেওয়ায় পুরসভা পরিচালনায় সমস্যা দেখা দেবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে কাটোয়া মহকুমাশাসকের দপ্তর থেকে। বিষয়টি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে। এসব ঘটনায় সাধারণ পুর নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই পুরসভার কাজকর্ম লাটে উঠেছে। তারপর কাউন্সিলারদের পদত্যাগ সহ বিভিন্ন কারণে কোন কাজই হচ্ছে না ঠিকমতো। হয়রানি বাড়ছে বলে দাবি সকলের।