দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে পিকনিকে গিয়ে এক বৃদ্ধের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে সোনারপুর থানার অন্তর্গত ঘাসিয়াড়া এলাকায়। অভিযোগ, পিকনিক চলাকালীন ৬০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির মৃত্যু হলে তাঁর সঙ্গীরা তাঁর দেহ রাস্তায় ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
জানা গিয়েছে মৃত ব্যক্তির নাম ক্ষুদিরাম মণ্ডল। তিনি টালিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় গাড়িচালক ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি গাড়িতে করে কয়েক জন ওই এলাকায় এসে বৃদ্ধের নিথর দেহ নামিয়ে রেখে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি চোখে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়।তাঁদের মধ্যে বুদ্ধদেব দাস জানান, তাঁদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল, তাঁরা কিছু লুকোনোর চেষ্টা করছেন।
আর এক প্রত্যক্ষদর্শী প্রবীর গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, গাড়িতে থাকা সকলেই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে মনে হয়েছে। তাঁদের কথাবার্তা ও আচরণ আরও সন্দেহ বাড়িয়ে দিচ্ছিল। এরপর এলাকাবাসীরা দ্রুত সন্দেহভাজনদের আটক করে সোনারপুর থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ অন্তত চার জনকে আটক করেছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ফলে কী কারণে ও ঠিক কখন ক্ষুদিরাম মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বৃদ্ধের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।পিকনিকে গিয়ে এমন রহস্যমৃত্যু ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর মৃতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।