জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে নতুন পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তর। পরীক্ষামূলকভাবে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ব্যবস্থা চালু করার কথা ঘোষণা করলেন স্কুল শিক্ষা দপ্তরের প্রধান সচিব বিনোদ কুমার। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সরকারি দপ্তরে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, দেশে জ্বালানি তেলের সংকট থাকায় আগেই প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে গাড়ি ব্যবহারের নিয়ন্ত্রনের আবেদন জানিয়েছেন।প্রধানমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীও তার নিরাপত্তা ছাড়া আর অন্য কোনো গাড়ি ব্যবহার করছেন না। এবার সেই পথে হাঁটতে চলেছে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তর।
বৃহস্পতিবার এক প্রশাসনিক বৈঠকে বিনোদ কুমার জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে দপ্তরের কিছু কাজ বাড়ি থেকে করার ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা হবে। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের একাংশের কর্মীদের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর হবে, কোন কোন বিভাগ এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং কতদিন পরীক্ষামূলকভাবে চলবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি।
এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি দপ্তরেও একই ধরনের ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ খরচ কমানো, যাতায়াতজনিত জ্বালানি সাশ্রয় এবং ডিজিটাল প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
করোনা পরিস্থিতির সময় বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি দপ্তরে বাড়ি থেকে কাজের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার নতুন করে এই পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। তবে শিক্ষক সংগঠন এবং শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে কাজের সমন্বয়, নথি আদানপ্রদান এবং প্রশাসনিক নজরদারির বিষয়টি কীভাবে সামলানো হবে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।