বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগে তফসিলি উপজাতি সংরক্ষিত সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তা নিয়ে ফের সক্রিয় হল জাতীয় তফসিলি জনজাতি কমিশন। অভিযোগের তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়া হয়। তবে এখনও পর্যন্ত তা নিয়ে কোনও জবাব না মেলায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কমিশন।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বভারতীর উপাচার্যের কাছে অভিযোগ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই চিঠির কোনও উত্তর মেলেনি। ফলে সম্প্রতি নতুন করে নোটিস জারি করে সাত দিনেরর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত জানুয়ারিতে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তুষারর পটুয়া জাতীয় তফসিলি জনজাতি কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, বাংলা বিভাগের এসটি সংরক্ষিত সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। একাধিক যোগ্য প্রার্থীকে সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন বিষয়টির তদন্ত শুরু করে। সাম্প্রতিক নোটিসে কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর না পেলে সংবিধানপ্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হতে পারে।
তুষার পটুয়ার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ নীরবতা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি করছে। তিনি মনে করেন,অভিযোগের যথাযথ জবাব না দেওয়ায় সন্দেহ আরও বেড়েছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলা বিভাগে সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক পদের সাক্ষাৎকার স্থগিত হওয়ার পর প্রকাশিত প্রাথমিক মেধাতালিকা নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। একাধিক প্রার্থী নির্বাচনের মানদণ্ড এবং তাঁদেরর বাদ পড়ার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। পরে মে মাসে সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও এসটি সংরক্ষিত সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক অব্যাহত ছিল।
এখন বিশ্বভারতীর তরফে কী জবাব দেওয়া হয় এবং জাতীয় তফসিলি জানজাতি কমিশন পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে শিক্ষামহল ও সংশ্লিষ্ট মহলের। তবে এই বিষয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।