আয়কর আধিকারিকদের সর্বভারতীয় সংগঠনের শীর্ষে নির্বাচিত বাংলার নেতৃত্ব

নিজস্ব চিত্র

দেশের আয়কর আধিকারিকদের অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠন ইনকাম-ট্যাক্স গেজেটেড অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভায় সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচিত হলেন আয়কর দপ্তরের ডেপুটি কমিশনার কমরেড সায়ন্তন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নির্বাচনের মাধ্যমে সংগঠনের সর্বোচ্চ পদে আবারও বাংলার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হল।

গুয়াহাটিতে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্যেই গঠিত হয় নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি। সেই কমিটির শীর্ষপদে সায়ন্তনবাবুর নির্বাচিত হওয়াকে সংগঠনের অন্দরেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, গত কয়েক বছর ধরে সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন বাংলার আর এক কৃতি আধিকারিক কমরেড ভাস্কর ভট্টাচার্য। তাঁর নেতৃত্বে সংগঠন বিভিন্ন প্রশাসনিক ও পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা নেয়। তবে এ বার তিনি নির্বাচনে অংশ নেননি। তা সত্ত্বেও শীর্ষপদে বাংলার প্রতিনিধির নির্বাচিত হওয়ায় রাজ্যের আয়কর আধিকারিকদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহের সঞ্চার হয়েছে।


সভায় আধিকারিকদের স্বার্থরক্ষা, প্রশাসনিক সংস্কার, দপ্তরের কাজের পরিবেশের উন্নয়ন এবং পরিষেবা কাঠামোর আধুনিকীকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে কর্মপরিবেশের স্বচ্ছতা, পদোন্নতি প্রক্রিয়ার গতি এবং পেশাগত মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।

নবনির্বাচিত সভাপতি কমরেড সায়ন্তন বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘সংগঠনের ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আধিকারিকদের ন্যায্য দাবি ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।’ তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় স্তরে বিভিন্ন নীতি ও পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়ে সংগঠন গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেবে।

বৃহস্পতিবার সায়ন্তনবাবু কলকাতায় ফিরে আসেন। বিমানবন্দরে সংগঠনের বেঙ্গল ইউনিটের পক্ষ থেকে তাঁকে পুষ্পস্তবক দিয়ে অভ্যর্থনা জানান অনুপম মজুমদার এবং অন্যান্য সদস্যরা। উপস্থিত সদস্যদের বক্তব্য, এই নির্বাচন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বাংলার আয়কর আধিকারিকদের সম্মানেরও প্রতীক।

সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দিনে কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণের বিভিন্ন স্তরে আধিকারিকদের মতামত তুলে ধরতে সক্রিয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাংলার নেতৃত্বে সর্বভারতীয় মঞ্চে সংগঠনের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করছেন সদস্যরা।