ভোটার তালিকায় নাম নেই, অথচ শুনানির নোটিস এল আড়াই মাস পরে! এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠল হাওড়ার সাঁকরাইল ব্লকের মানিকপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। ছয়টি বুথের প্রায় ১১০০ ভোটার, যাঁদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নাম ফেরানোর আশায় নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে ঘুরছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে পাওয়া নোটিস তাঁদের চরম বিভ্রান্তিতে ফেলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মানিকপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৩৫, ২৩৬, ২৩৭, ২৩৮, ২৩৯ ও ২৪০ নম্বর বুথে প্রায় ১১০০ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ৮ এপ্রিল, বুধবার আচমকাই সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুনানির নোটিস দিয়ে আসেন। কিন্তু সেই নোটিসে লেখা রয়েছে, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে সাঁকরাইল বিডিও দপ্তরে হাজির হতে হবে। অথচ বর্তমানে এপ্রিল মাস চলছে— অর্থাৎ শুনানির তারিখ পেরিয়ে যাওয়ার অনেক পরে এই নোটিস দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ভোটাররা সাঁকরাইল থানার অন্তর্গত মানিকপুর ফাঁড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাঁদের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। এক বিক্ষোভকারী জাফুরুল্লা মণ্ডল বলেন, ‘যাঁরা আমাদের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা এই অন্যায় মেনে নেব না।’
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন সাঁকরাইলের বিডিও কামারুল মনির। যদিও তিনি এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। অভিযোগ উঠেছে, কাগজের ভুল ঢাকতে নোটিসে পুরনো তারিখ কেটে নতুন করে বর্তমান তারিখ লেখা হয়েছে।
ভোটারদের বক্তব্য, যদি সময়মতো শুনানির নোটিস দেওয়া হত, তাহলে তাঁরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে হাজির হতে পারতেন। নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি মিটিয়ে নিতে পারতেন। মানিকপুরের এক ভোটার সাহানা শেখের কথায়, ‘আমাদের কাছে সব কাগজ ছিল। কিন্তু সময়মতো জানানো হয়নি বলেই আজ এই পরিস্থিতি।’
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। সাঁকরাইল ব্লক সভাপতি অমৃত বোস বলেন, ‘এটা নির্বাচন কমিশনের খামখেয়ালিপনা, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে সংখ্যালঘু ভাই-বোনেদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তার জবাব চাই। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ভুক্তভোগী ভোটারদের পাশে রয়েছি।’
এই ঘটনাকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা নড়বড়ে করে দিতে পারে। এখন দেখার, প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় এবং ওই ১১০০ ভোটারের নাম ফের তালিকায় তোলা হয় কি না।