জোরজুলুমে উচ্ছেদ নয়, নতুন সরকারের বুলডোজার রাজের বিরোধিতায় সরব সেলিম

হকার উচ্ছেদ, বুলডোজার অভিযান এবং গোরক্ষার নামে জুলুমবাজি- নতুন সরকারের একাধিক পদক্ষেপ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করল সিপিআই(এম)। রবিবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের মুজফ্‌ফর আহমদ ভবনে দলের দু’দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, জোরজুলুম করে হকার উচ্ছেদ কিংবা বুলডোজার চালিয়ে সমস্যা মেটানো যায় না। সরকারকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আর্থিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করতে হয়। মানুষের জীবিকা ও জীবনের প্রশ্নকে উপেক্ষা করে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তার বিরূপ প্রভাব পড়বে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সেলিম বলেন, যেভাবে মস্তান পাঠিয়ে কাজ করানো হচ্ছে, সেটা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নতুন কিছু করতে হলে মানুষকে সময় দিতে হয়। হকার উচ্ছেদের ক্ষেত্রেও আগাম সময়সীমা ঘোষণা করতে হবে। তাঁর বক্তব্য, সরকার পাঁচ বছরের জন্য গঠিত হলেও ইতিহাস একদিনে বদলে দেওয়া যায় না। উন্নয়ন বা সংস্কারের নামে জীবিকা কেড়ে নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়বে।

বুলডোজার রাজ নিয়েও সরব হয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক। তাঁর দাবি, বুলডোজার বা গোরক্ষার নামে জুলুমবাজি সমাজে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করে। তিনি বলেন, আগের সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের অন্যতম ক্ষোভ ছিল আইনি শাসনের অভাব। নতুন সরকারও যদি একই পথে হাঁটে, তবে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, কোনওভাবেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয় যাতে ধর্মীয় বিভাজন বা উত্তেজনা তৈরি হয়।


সেলিমের অভিযোগ, রাজ্যে ইতিমধ্যেই গোরক্ষার নামে জুলুম শুরু হয়েছে। সামনে কুরবানি ও বকরি ঈদ থাকায় গবাদি পশু ব্যবসায়ী ও পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তিনি বলেন, মাংস শুধু মুসলিমরা খান না। আদিবাসী, তফসিলি সম্প্রদায়ের বহু মানুষ এই পেশা ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পশুহত্যা ও পরিবহণ সংক্রান্ত সরকারি বিধিনিষেধের ফলে ছোট ছোট পশু হাটে কেনাবেচা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গোপালক, ব্যবসায়ী ও পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ।

সিপিএমের তরফে জানানো হয়েছে, এই বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পাশাপাশি রাস্তায় আন্দোলনেও নামবে দল। গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ সব শক্তিকে এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সেলিম। রবিবার সন্ধ্যায় তপসিয়ায় বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভাঙার প্রতিবাদে আয়োজিত সিপিআই(এম)-এর মিছিলে অংশ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

জাতীয় শিক্ষা নীতি মৌ সাক্ষর প্রসঙ্গে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন সেলিম। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে এবং গরিব ও প্রান্তিক পরিবারের পড়ুয়াদের উপর চাপ বাড়বে।
এদিন তিনি আরও জানান, সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে দলের সর্বস্তরে পর্যালোচনা চলছে। বুথ, অঞ্চল ও ওয়ার্ড স্তরে জুন মাস জুড়ে বৈঠক হবে। বিভিন্ন স্তর থেকে উঠে আসা মতামত, প্রশ্ন ও দুর্বলতা সংকলন করে আগস্ট মাসে বর্ধিত রাজ্য কমিটির বৈঠকে আলোচনা করা হবে। আগামী ২৯ ও ৩০ আগস্ট সেই বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক।