অভিষেকের সঙ্গে যৌথ সম্পত্তি নিয়ে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি সায়নীর

ভোট পর্ব শেষ হলেও রাজনৈতিক উত্তাপ কমেনি এখনও। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষের নামে একটি কথিত যৌথ সম্পত্তি ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সমাজমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছিল, কলকাতার দমদম সংলগ্ন ১৯ ডি সেভেন ট্যাঙ্কস রোডের একটি ফ্ল্যাট নাকি অভিষেক ও সায়নীর যৌথ মালিকানাধীন। কলকাতা পুরসভার একটি মিউটেশন নোটিসের ছবি সামনে এনে এই দাবি ছড়ানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ।

এই বিতর্কের মাঝেই সরাসরি মুখ খুলেছেন সায়নী ঘোষ। এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, উল্লিখিত সম্পত্তির সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। একইসঙ্গে যাঁরা তাঁর নামে ‘ভুয়ো তথ্য’ ছড়াচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তৃণমূল সাংসদ। সায়নী লেখেন, তিনি বেশ কিছু ফরওয়ার্ড মেসেজ দেখেছেন যেখানে দাবি করা হচ্ছে, ওই ঠিকানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সায়নী ঘোষের যৌথ সম্পত্তি রয়েছে। তবে তাঁর সাফ বক্তব্য, ‘ওই সায়নী ঘোষ আমি নই।’

নিজের রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেছেন, অত্যন্ত সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে রাজনীতি করে কখনও কোনও অপ্রত্যাশিত সুবিধা নেননি তিনি। এরপর বিরোধীদের উদ্দেশে পাল্টা খোঁচা দিয়ে সায়নী মনে করিয়ে দিয়েছেন, তাঁর সমস্ত সম্পত্তির বিবরণ নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামাতেই রয়েছে। সাধারণ মানুষ চাইলে সেই নথি যাচাই করেও দেখতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি।


তথ্য ছড়িয়ে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা হলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন সায়নী। তাঁর কথায়, ‘এই ঘোষকে ভয় দেখিয়ে চুপ করানো যাবে না।’ পোস্টের শেষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’ কবিতার লাইন উদ্ধৃত করে তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের আক্রমণের সামনে তিনি মাথা নত করবেন না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নাম বিভ্রাটকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমে তৃণমূলকে চাপে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। তবে বিতর্ক বাড়ার আগেই পাল্টা জবাব দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশল নিয়েছেন সায়নী ঘোষ।