মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন জমা মানিকতলা উপনির্বাচনের তৃণমূল প্রার্থী সাধন-জায়া সুপ্তির 

Written by SNS June 19, 2024 5:03 am
নিজস্ব প্রতিনিধি : লোকসভা ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার রাজ্যের ৪টি বিধানসভা আসনে হতে চলেছে উপনির্বাচন। ভোট হতে চলেছে রায়গঞ্জ, রানাঘাট দক্ষিণ, বাগদা ও মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রে।আগামী ১০ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য মানিকতলা উপনির্বাচনে তৃণমূলের তরফ থেকে প্রার্থী করা হয়েছে প্রয়াত তৃণমূল নেতা সাধন পাণ্ডের স্ত্রী সুপ্তি পাণ্ডে কে। সেই উদ্দেশ্যেই মঙ্গলবার জোসেফ বিল্ডিংয়ে নমিনেশন জমা দিলেন মানিকতলা উপনির্বাচন কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুপ্তি পান্ডে। সঙ্গে ছিলেন সুপ্তির মেয়ে শ্রেয়া পান্ডে এবং এই মানিকতলা উপনির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিফ ইলেকশন এজেন্ট অনিন্দ্যকিশোর রাউত। এদিন ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে মনোনয়ন জমা করেন সুপ্তি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার নবান্নে আয়োজিত হয়েছিল একটি বৈঠক। সেই বৈঠকে প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ, কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ, মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দারদের সঙ্গে সুপ্তিকেও ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, সেখানেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, মানিকতলা উপনির্বাচনে সাধন-জায়া সুপ্তিকেই প্রার্থী করা হচ্ছে। সেই মতো পরে আনুষ্ঠানিক ভাবে তিনিই প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হন।
তবে কে এই সুপ্তি পান্ডে? সুপ্তি শুধু প্রয়াত রাজ্যের মন্ত্রী সাধন পান্ডের স্ত্রী নন, তিনি মমতার সহপাঠীও ছিলেন। একটা সময়ে গুঞ্জন ছিল, সাধনের কেন্দ্রে তাঁর মেয়ে শ্রেয়া পাণ্ডে কে প্রার্থী করতে পারে তৃণমূল। কিন্তু সেই গুঞ্জন বাস্তবায়িত হয়নি। বরং প্রার্থী হিসেবে মেয়ের বদলে জায়গা করে নিলেন মা। ২০২২ সালে সাধন পান্ডে প্রয়াত হন। তারপর থেকে মানিকতলায় উপনির্বাচন বকেয়া রয়েছে। ২০২১ সালের ভোটে মানিকতলায় সাধনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন বিজেপির কল্যাণ চৌবে। কল্যাণের দায়ের করা একটি মামলার জন্য মানিকতলায় উপনির্বাচন করা যাচ্ছিল না। সম্প্রতি ওই মামলা খারিজ করে দেয় আদালত। আদালত নির্দেশ দেয়, অবিলম্বে উপনির্বাচন করতে হবে। সেই মতো তড়িঘড়ি করেই প্রার্থী বাছাই করে তৃণমূল। সূত্রের খবর, মঙ্গলবারের বৈঠকে মমতা স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, দলের প্রার্থীকে জেতাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে নামতে হবে। উল্লেখ্য, মানিকতলায় কাকে প্রার্থী করা যেতে পারে, সেই বিষয়ে মঙ্গলবারের বৈঠকে উত্তর কলকাতার তৃণমূলের উচ্চ নেতৃত্ব এবং কাউন্সিলদের কাছ থেকে মতামত চেয়েছিলেন মমতা। প্রায় সকলেই সুপ্তির নামে সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন। অন্যদিকে আবার দলের শীর্ষ নেতৃত্বরাও সুপ্তিকেই প্রার্থী করতে চায় বলে জানিয়েছিলেন। তাই সব দিক বিবেচনা করে সুপ্তি কেই প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই উপনির্বাচনে মানিকতলায় দলের আহ্বায়ক করা হয়েছে কুণাল ঘোষকে। পাশাপাশি অনিন্দ্যকিশোর রাউতকে করা হয়েছে চিফ ইলেকশন এজেন্ট।