অভিযুক্ত যে-ই হোন না কেন, আইন সবার জন্য সমান— এমনই বার্তা দিলেন হাওড়ার শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। মঙ্গলবার দ্য স্টেটসম্যান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কোনও ব্যক্তি অপরাধ করে থাকলে বা কোনও সরকারি নীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকলে, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিতর্ক ও অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে রুদ্রনীল বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে আইনের শাসনই সর্বাগ্রে। রাজনৈতিক পরিচয়, পদমর্যাদা বা প্রভাবশালী অবস্থান কোনওভাবেই আইনের ঊর্ধ্বে হতে পারে না। তাঁর বক্তব্য, দেশের সংবিধান এবং বিচারব্যবস্থা প্রত্যেক নাগরিককে সমান চোখে দেখে। ফলে কোনও অভিযোগ সামনে এলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এবং সত্য উদঘাটন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, “যদি কোনও ব্যক্তি অপরাধ করে থাকেন, অথবা কোনও সরকারি নীতি বা ব্যবস্থাকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সাহায্য করার জন্য অপব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আমাদের দেশে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। যদি কোনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং তাঁদের শাস্তি হওয়া উচিত।”
🎥 | BJP’s #RudranilGhosh asserts that no one is above the law in response to CID raids on the residences of Mamata and Abhishek Banerjee.@BJP4Bengal | #TMC #CID #WestBengal #BengalPolitics #TheStatesman pic.twitter.com/9DZbEgbXX5
— The Statesman (@TheStatesmanLtd) June 9, 2026
তিনি আরও বলেন, তদন্তের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বিশেষের নাম বা রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। বরং তথ্যপ্রমাণ এবং আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হওয়া প্রয়োজন। তাঁর কথায়, “অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হোন বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অথবা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা— তাতে কোনও পার্থক্য নেই। আইনের চোখে সবাই সমান।”
বিধায়কের মতে, কোনও অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করাও যেমন ঠিক নয়, তেমনই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাও গ্রহণযোগ্য নয়। স্বচ্ছ তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সত্য সামনে আসা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
রুদ্রনীল আরও বলেন, সাধারণ মানুষ এখন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা প্রত্যাশা করেন। তাই যে কোনও অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে মানুষের আস্থা বজায় থাকে। তাঁর দাবি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রুদ্রনীল ঘোষের এই মন্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে বিভিন্ন বিতর্ক ও অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন আইনের সমান প্রয়োগের পক্ষে তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।