ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে ফের উত্তেজনা ছড়াল। সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বাদ পড়া ভোটারদের পরিসংখ্যান সামনে আসতেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। অভিযোগ উঠেছে, বাদ পড়াদের মধ্যে বিপুল অংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, যা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।
তথ্য অনুযায়ী, সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বাদ পড়া মোট ২,৮২৬ জনের মধ্যে প্রায় ২,৭০০ জনই মুসলিম সম্প্রদায়ের। শতাংশের হিসেবে যা প্রায় ৯৫.৫। অথচ নন্দীগ্রামের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২৫ শতাংশই মুসলিম। অন্যদিকে বাদ পড়া অ-মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ১২৬ জন, অর্থাৎ প্রায় ৪.৫ শতাংশ। এই অমিল ঘিরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে প্রশাসনিক স্তরে।
Advertisement
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত আগের তালিকায় মোট ১০,৬০৪ জনের নাম বাদ পড়েছিল। তখন সেখানে অ-মুসলিম ভোটার ছিলেন ৬৬.৭ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ছিলেন ৩৩.৩ শতাংশ। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এই পরিসংখ্যানের এত বড় পরিবর্তন কেন ঘটল, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা।
Advertisement
লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যানেও দেখা যাচ্ছে, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৫১.১ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৮.৯ শতাংশ মহিলা। ফলে এই তালিকা সংশোধন কতটা নিরপেক্ষভাবে হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শেখ সুফিয়ান অভিযোগ করেছেন, বিজেপির প্রভাবেই বেছে বেছে সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘এটা পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। আমরা আইনি পথে লড়ব এবং প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হব।’
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা মেঘনাদ পাল এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করেছেন। তাঁর দাবি, ‘পুরো প্রক্রিয়াটি নির্বাচন কমিশনের অধীনেই হয়েছে। নিয়ম মেনেই তালিকা সংশোধন করা হয়েছে, এখানে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নেই।’
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি আইনি পথে গড়ালে আদালতের হস্তক্ষেপে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
নন্দীগ্রামে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে এই বিতর্ক যে আগামী দিনে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা বলাই যায়। এখন সবার নজর প্রশাসন ও আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
Advertisement



