১৫ দিনে নিয়ম না মানলে লাইসেন্স বাতিল রুফটপ রেস্তরাঁর

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

নির্দেশিকা মানতে গড়িমসি করা রুফটপ রেস্তরাঁগুলির বিরুদ্ধে এবার আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে কলকাতা পুরসভা। সরকার নির্ধারিত এসওপি অনুযায়ী এখনও যেসব রেস্তরাঁ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি, তাদের নতুন করে নোটিস পাঠানো শুরু হয়েছে। নোটিস পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সমস্ত নিয়ম কার্যকর না হলে লাইসেন্স বাতিল সহ কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে।

সম্প্রতি পুরসভা, দমকল ও পুলিশের যৌথ দল শহরের বিভিন্ন এলাকায় মোট ৮৩টি রুফটপ রেস্তরাঁ ও পানশালায় পরিদর্শন চালায়। সেই অভিযানে একের পর এক গাফিলতির ছবি উঠে আসে। কোথাও ফায়ার লাইসেন্স থাকলেও ছাদের নির্ধারিত ৫০ শতাংশ অংশ খোলা রাখার নিয়ম মানা হয়নি। কোথাও আবার কোনও ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই রেস্তরাঁ চলছে। কয়েকটি জায়গায় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকলেও লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। আবার কোথাও প্রয়োজনীয় কাজ শুরু হলেও এখনও তা সম্পূর্ণ হয়নি।

যাচাইয়ের জন্য যৌথ দল একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র নিয়ে মাঠে নামে। কোন রেস্তরাঁ কোন ওয়ার্ড ও বরোর অন্তর্গত, সেখানে ছাদের ব্যবহার, ফায়ার লাইসেন্স, মিউটেশন, পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স, জরুরি অবস্থায় বেরোনোর ব্যবস্থা, সিঁড়ির সংখ্যা, ছাদের দরজা খোলা রাখা হচ্ছে কি না এই সমস্ত বিষয় খুঁটিয়ে দেখা হয়। প্রতিটি রেস্তরাঁর তথ্য আলাদা করে নথিভুক্ত করে রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই এবার নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ সূত্রে খবর, দুর্গাপুজোর আগে অন্তর্বর্তীকালীন বন্ড দিয়ে যেসব রুফটপ রেস্তরাঁ চালু হয়েছিল, তাদের একাংশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি। ইতিমধ্যেই ১৭টি রেস্তরাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। আগামী দিনে আরও কয়েকটি রেস্তরাঁ ও পানশালার বিরুদ্ধেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে সব জায়গাতেই যে অনীহা রয়েছে, তা নয়। আধিকারিকদের মতে, কিছু রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ নিয়ম মানার বিষয়ে ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে এবং ধাপে ধাপে পরিকাঠামো ঠিক করছে। তাদের বাকি ঘাটতিগুলি দ্রুত পূরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিল্ডিং বিভাগের এক কর্তা জানান, নোটিস পাওয়ার পর ১৫ দিনের মধ্যে যদি প্রয়োজনীয় নিয়ম কার্যকর না করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট রেস্তরাঁর লাইসেন্স বাতিল পর্যন্ত করা হতে পারে। নিরাপত্তা নিয়ে কোনও রকম
ছাড় দেওয়া হবে না বলেই স্পষ্ট
বার্তা প্রশাসনের।