বারুইপুর গেলেন ঋতব্রত, সায়নী, চন্দ্রিমা এবং কাকলিরা

Image: IANS

বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর এলাকায় গেল তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার সকালে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে যান দলের একাধিক নেতা-নেত্রী। প্রতিনিধি দলে ছিলেন এলাকার সাংসদ সায়নী ঘোষ, কাকলি ঘোষ, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং শিউলি সাহাও।

এলাকায় ঢুকতে গেলে প্রথমে পুলিশ ও প্রতিনিধি দলের মধ্যে ঝামেলা বাধে। পরে এলাকার সাংসদ হিসেবে একমাত্র  সায়নী ঘোষকে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। বাইরে অপেক্ষারত কাকলি ঘোষ দস্তিদার সংবাদমাধ্যমকে জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তাঁরা এসেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই নৃশংস ঘটনায় দোষীদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করছে এবং এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই তাঁদেরর উদ্দেশ্য।

উল্লেখ্য, সোমবার কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের তরফে দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল এবং বারুইপুর পশ্চিমের প্রাক্তন বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। একই দিনে কালীঘাটে মোমবাতি মিছিলেও অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


রবিবার ভোরে বারুইপুরের সূর্যপুরে ১১ বছরের এক নাবালিকার গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে পরিবার কিছুটা আশ্বস্ত হলেও ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি দল একের পর এক নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করে।

ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল শিবিরের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং একজন মা হিসেবে তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছেন। তাঁর দাবি, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে এবং দল পরিবারের পাশে রয়েছে।

অন্যদিকে, বাড়ি থেকে বেরনোর সময় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিক্ষোভের মুখেও পড়তে হয়। পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই তিনি এলাকা ছাড়েন। সায়নী ঘোষ বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি ঘটনার পর প্রশাসন কীভাবে পদক্ষেপ করছে সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।