ঋতব্রতকে কটাক্ষ শতরূপের

 

দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে ফের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই ঘটনাকে ঘিরেই তীব্র কটাক্ষ করলেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ। ঋতব্রতকে ‘বেইমান’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ধারাবাহিকতা দেখলে এই পরিণতি অপ্রত্যাশিত নয়।

প্রসঙ্গত, প্রায় নয় বছর আগে সিপিএম থেকেও বহিষ্কৃত হয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ও তাঁর বিরুদ্ধে দলবিরোধী কাজের অভিযোগ উঠেছিল। পরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু সম্প্রতি নিজের দল তৃণমূলের বিরুদ্ধেই সই জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন তিনি। এরপরই কড়া পদক্ষেপ নেয় তৃণমূল নেতৃত্ব এবং তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।


এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শতরূপ ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “বাংলার রাজনীতির প্রথম নায়ক, যিনি একটি জীবনে দুই দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন।” একইসঙ্গে তিনি ঋতব্রতকে ‘যমের অরুচি’ বলেও কটাক্ষ করেন। শতরূপের বক্তব্য, “কতখানি যমের অরুচি হলে এমনটা হতে পারে! সিপিএমও তাঁকে তাড়িয়ে দিয়েছিল, তৃণমূলও তাঁকে তাড়িয়ে দিল।”

এখানেই থেমে থাকেননি সিপিএম নেতা। তাঁর দাবি, ঋতব্রতের রাজনৈতিক আচরণ দেখেই বোঝা গিয়েছিল যে ভবিষ্যতে তিনি যে কোনও দলের সঙ্গেই মতবিরোধে জড়াতে পারেন। শতরূপ বলেন, “যে সিপিএম তাঁকে দেশের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ করে তুলেছিল, অল্প বয়সে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল, সেই দলের সঙ্গেই যদি তিনি বেইমানি করতে পারেন, তাহলে তৃণমূলের সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটবে, তা অস্বাভাবিক নয়।”

শতরূপ আরও দাবি করেন, ঋতব্রত যখন তৃণমূলে যোগ দিয়ে সিপিএমের সমালোচনা করতেন, তখন তৃণমূল নেতৃত্ব তা সাদরে গ্রহণ করেছিল। কিন্তু এখন একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। তাঁর কথায়, “ঋতব্রত যখন তৃণমূলে গিয়ে সিপিএমের বিরুদ্ধে বলতেন, তখন তৃণমূল নেতৃত্ব খুশি হয়েছিল। এখন সেই একই ব্যক্তি তাঁদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন। এই পরিস্থিতির জন্য তৃণমূলকেও প্রস্তুত থাকা উচিত ছিল।”

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে নতুন এই বিতর্ক রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের সিদ্ধান্ত এবং বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া—দুই মিলিয়ে ঘটনাটি আগামী দিনেও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।