বিরোধী দলনেতার চেয়ারে ঋতব্রতই? মঙ্গলেই চূড়ান্ত রায়,কাল থেকে বিধানসভা—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার?

Image: SNS

বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Ritabrata Banerjee) স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)  মামলা দায়ের হয়েছিল। মামলা শেষ হলেও রায়দান স্থগিত রেখেছিল বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয় দাশগুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ। ফলে তখন থেকেই রাজনৈতিক মহেল বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল, শেষ পর্যন্ত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার চেয়ারে কে বসবেন?

বিধানসভার  স্পিকার রথীন্দ্র বসু বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের (Calcutta High Court) নাম ঘোষণা করেন। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)  আদালতে দাবি করেছিলেন, রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে স্পিকার একতরফা ভাবে ঋতব্রতকে (Ritabrata Banerjee) বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘দলই ঠিক করবে কে পরিষদীয় দলের নেতা হবেন। স্পিকারের কাছে রাজনৈতিক দলের প্রস্তাব গ্রহণ করা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই।’

আরও পড়ুন: জোড়াবাগানে বৃষ্টির জেরে ভেঙে পড়ল ২০০ বছরের পুরনো বাড়ি, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত্যু এক বৃদ্ধার


অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল জানান, ৫৮ জন বিধায়ক স্বাক্ষর করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) নাম প্রস্তাব করেছিলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ সামনে থাকায় স্পিকারের কাছে তা মেনে নেওয়া ছাড়া কার্যত কোনও বিকল্প থাকে না। শুনানিতে বেঞ্চের প্রশ্ন, স্পিকার প্রথম কবে বিরোধী দলনেতা সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছিলেন? জবাবে জানানো হয়, ৯ মে একটি চিঠি এলেও তখন স্পিকার নির্বাচিত হননি। ১৫ মে স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পরে ১৯ মে আরও একটি চিঠি আসে। সেখানে ১৮ মে সর্বসম্মত প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই বৈঠক হয়নি বলে আদালতকে জানানো হয়। পরে সই জাল সংক্রান্ত অভিযোগও স্পিকারের কাছে জমা পড়ে। শেষ পর্যন্ত ৩ জুন ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

মামলাকারীর আইনজীবীর অভিযোগ, ‘সবাইকে অন্ধকারে রেখে বিরোধী দলনেতা নিয়োগ করা যায় না। ওই চেয়ারে বসে পক্ষপাত করা যায় না।’
ঋতব্রতের (Ritabrata Banerjee)আইনজীবী জয়দীপ কর অবশ্য পাল্টা দাবি করেন, ৫৮ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৬ জন স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন। বাকি দু’জন পরে সম্মতি জানান। স্পিকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, বিধায়ক হতে হবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন থাকতে হবে—এই দুই শর্ত পূরণ হওয়ায় স্পিকারের সিদ্ধান্তে কোনও ভুল নেই।

আরও পড়ুন: জ্ঞানেশ কুমারের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ এসআইআর এবার আমেরিকায়? ট্রাম্পের মন্তব্যে জল্পনা

শুনানিতে বিচারপতির সওয়াল করেন, ‘৩ জুন আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন। একই দলের দ্বিতীয় চিঠি কেন গ্রহণ করা হল?’ স্পিকারের আইনজীবী জানান, প্রথম রেজলিউশনের সময় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন না এবং তাঁদের সই জাল হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। আদালত তখন জানতে চায়, সেই অভিযোগের যাচাই কোথায় হয়েছিল? ‘৫৮ বেশি, না ৭৮ বেশি—কোনটা ঠিক?’ প্রশ্ন ওঠে বেঞ্চে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) শুনানিতে মহারাষ্ট্রের একনাথ শিন্ডে বনাম উদ্ধব ঠাকরে মামলার প্রসঙ্গও টানেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক দলই প্রথমে; পরিষদীয় দল তার পরে। দল যাঁকে নেতা হিসেবে মনোনীত করবে, বিধানসভায় সেই সিদ্ধান্তই কার্যকর হওয়া উচিত। তাঁর প্রশ্ন, ‘একটি রাজনৈতিক দলে কি দু’টি ব্লক থাকতে পারে? ভোটের সময় সিদ্ধান্ত নেবেন কে—ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee), না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ?’

এই মামলাকে ঘিরে এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বিধানসভার অধিবেশন। আদালত স্থগিতাদেশ না দিলে স্পিকার অন্য গোষ্ঠীকে বৈঠকে ডাকবেন না বলেও আদালতে দাবি করা হয়েছে। ফলে হাইকোর্টের (Calcutta High Court)  রায়ের দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। রায় ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে, বিধানসভায় বিরোধী দলের নেতৃত্বের লাগাম শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে।

দেখুন: দুর্গাপুজোর আবহে হলদিয়ায় বড় বিনিয়োগ, পুরুলিয়ার মঞ্চ থেকে বড় ঘোষণা