আরজি কর কাণ্ডের তদন্তকারী সিবিআই আধিকারিকের পদোন্নতি, ক্ষোভে ফুঁসছেন তিলোত্তমার মা

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

আরজি করে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তকারী সিবিআই আধিকারিক সীমা পাহুজার পদোন্নতি ও বদলিকে কেন্দ্র করে ফের বিতর্ক তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার সিবিআই-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) পদ থেকে পুলিশ সুপার (এসপি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন সীমা পাহুজা। একইসঙ্গে তাঁকে চণ্ডীগড় থেকে সিবিআই-এর দিল্লি স্পেশ্যাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ (১)-এর এসপি পদে বদলি করা হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পদোন্নতি ও বদলি সত্ত্বেও আরজি কর ধর্ষণ ও খুন মামলার তদন্তের দায়িত্বে তাঁকেই বহাল রাখা হয়েছে।

সিবিআই সূত্রে জানানো হয়েছে, এই পদোন্নতি সম্পূর্ণ রুটিন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। সংস্থার অন্দরের দাবি, সীমা পাহুজার ভাবমূর্তি বিভাগে ‘স্বচ্ছ’ এবং অতীতেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তিনি তদন্তকারী দলের অংশ ছিলেন। হাথরাস কাণ্ডের সময় গঠিত সিবিআই তদন্তকারী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন সীমা পাহুজা। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হয়েছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার।

তবে এই পদোন্নতির খবরে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আরজি কর কাণ্ডে নিহত তরুণী চিকিৎসকের বাবা-মা। তদন্তের শুরু থেকেই সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, গোটা ঘটনার নেপথ্যে কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায় একা ছিল— এই তত্ত্ব তাঁরা মানতে নারাজ। বরং তাঁদের দাবি, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।


সংবাদমাধ্যমের সামনে তিলোত্তমার মা সরাসরি সীমা পাহুজার বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তাঁর কথায়, ‘এই অফিসার আমার মেয়ের কেসে যে তদন্ত করেছেন, তাতে ওনার জেলে থাকা উচিত ছিল। উনি নিজেই আমাদের বলেছিলেন যে তিনি তদন্ত করছেন না, পুলিশ যা করেছিল তাতেই সিলমোহর দিয়েছেন। তাহলে দায়িত্ব নেওয়ার মানে কী?’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, তদন্তকারী অফিসার তাঁদের সঙ্গে ঠিকমতো কথাই বলেননি, এমনকি তাঁর সাক্ষ্যও নেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, আরজি কর মামলার শুরু থেকেই সিবিআই-এর নেওয়া তদন্তের ভার ছিল সীমা পাহুজার কাঁধে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার অফিসার হিসেবে তিনি এই সংবেদনশীল মামলার তদন্ত চালিয়েছেন। এখন এসপি পদে উন্নীত হলেও মামলার তদন্তভার তাঁর হাতেই রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তিলোত্তমার পরিবার ফের ‘তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার’ অভিযোগ তুলেছে।

তিলোত্তমার মা আরও স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা যদি আসল অপরাধীদের হদিস পাই, তবে এই সিবিআই অফিসারের বিরুদ্ধেও মামলা করব। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ ইতিমধ্যেই তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এর আগে প্রধানমন্ত্রীকেও চিঠি লিখে ক্ষোভ জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই আরজি করের আর্থিক দুর্নীতির মামলার তদন্তকারী সিবিআই অফিসার মণীশকুমার উপাধ্যায়কে প্রজাতন্ত্র দিবসে বিশেষ পদক দেওয়া হয়। সেই ঘটনাও আরজি কর কাণ্ডে সিবিআই-এর ভূমিকা ও তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সব মিলিয়ে, সীমা পাহুজার পদোন্নতি ও বদলি আরজি কর কাণ্ডের তদন্তকে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে এনে দাঁড় করিয়েছে। বিচার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তিলোত্তমার পরিবারের ক্ষোভ যে আরও গভীর হচ্ছে, তা স্পষ্ট।