নথি না থাকলেও শুনানিতে ছাড়: চা-বাগান শ্রমিকদের স্বস্তি

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

নিজস্ব প্রতিনিধি —- দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি এই তিন জেলাতেই রয়েছে বিস্তীর্ণ চা-বাগান এলাকা। অনেক চা-বাগানের বয়স প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ বছর। এই বাগানগুলিতে কর্মরত বহু শ্রমিক বংশপরম্পরায় সেখানে কাজ করে আসছেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, তাঁদের অনেকের কাছেই নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট করা ১৩টি পরিচয়পত্র বা নথি নেই।

তবে নথি না থাকলেও শ্রমিকদের মাইনে, প্রভিডেন্ট ফান্ড-সহ একাধিক সরকারি কাগজপত্র শ্রম দপ্তরের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে টি প্লান্টেশন লেবার অ্যাক্ট মেনে শ্রমিকদের যাবতীয় সরকারি নথির বিস্তারিত রিপোর্ট দার্জিলিংয়ের জেলাশাসকের কাছ থেকে চেয়ে পাঠানো হয়েছে।

কমিশনের নির্দিষ্ট নথি দেখাতে না পারলেও, শুনানির সময় যদি শ্রম দপ্তরের নথি পেশ করা যায়, তা গ্রহণযোগ্য হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে উত্তর দিনাজপুরে থাকা চা বাগান গুলোকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। কারণ হিসেবে কমিশনের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে এই চা বাগানগুলি নতুন।


এ ছাড়াও কমিশনের উল্লেখ করা ১৩টি নথির তালিকার বাইরে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকেও বৈধ নথি হিসেবে মান্যতা দেওয়ার আবেদন জানাতে চলেছে কমিশন। এতদিন মাধ্যমিকের সার্টিফিকেটকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও, অ্যাডমিট কার্ডে স্পষ্টভাবে বয়স ও জন্মতারিখ উল্লেখ থাকায় সেটিকেও গ্রহণযোগ্য করার আর্জি জানানো হবে।

সব মিলিয়ে চা-বাগান এলাকার শ্রমিকদের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনেই যেন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা যায়, সেই দিকেই জোর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন—এমনটাই প্রশাসনিক মহলের ইঙ্গিত।