বৃহস্পতিবার বিধানসভায় রাজ্য বাজেট পেশ করেছেন রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বাজেটে রয়েছে একগুচ্ছ ঘোষণা। ডিএ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি, সিভিক ভলান্টিয়ার এবং পার্শ্ব শিক্ষকদের ভাতা।
অন্তর্বর্তী বাজেট পেশের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান মুখ্য উপদেষ্টা অমিত মিত্র। রাজ্যের আর্থিক সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন অমিত মিত্র। তিনি বলেন ‘আমরা এফআরবিএম এর নিয়ম মেনে চলেছি। যে আর্থিক শৃঙ্খলা কেন্দ্রও মানে না। বামেদের রেখে যাওয়া দেনার আড়াই লক্ষ কোটি আসল এবং সুদ শোধ করেছি।‘
এরপর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেন্দ্র আমাদের বকেয়া ২ লক্ষ কোটি টাকা দিলে রাজ্য আরও এগিয়ে যাবে। মনে রাখবেন, ‘আমরা কিন্তু আর্থিক শৃঙ্খলা মেনে চলছি, কেন্দ্র মানে না।’
২০১০-১১ অর্থবর্ষের তুলনায় রাজ্যের মোট বাজেটে বরাদ্দ প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান মুখ্য উপদেষ্টা অমিত মিত্র। রাজ্যের নিজস্ব কর আদায়ের অঙ্ক ছ’ গুণ বেড়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘অতীতের বাম আমলের সঙ্গে তুলনা করলে পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্য এগিয়েছে সাড়ে ১৮ গুণ।’
কৃষি ও গ্রামীণ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে বলে দাবি করেন অমিত মিত্র। তিনি জানান, এই দুই ক্ষেত্রে উন্নয়নের হার আগের তুলনায় ১৩ গুণ বেড়েছে। সামাজিক সুরক্ষা খাতে উন্নয়ন হয়েছে প্রায় ১৮ গুণ, দাবি তাঁর।
সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে এদিন জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ও আর্থিক চাপের কথা উল্লেখ করেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তার মধ্যেও রাজ্য উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার ছিল মমতার তৃতীয় দফার সরকারের শেষ বাজেট। মে মাস পর্যন্ত রয়েছে এই সরকারের মেয়াদ। তাই এবার পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করা সম্ভব নয়। সে কারণে এদিন বিধানসভায় অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেন প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। আর উন্নয়নের রেকর্ড খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী প্রধান মুখ্য উপদেষ্টা অমিত মিত্র।