ফিরবে পুলিশের হারানো গৌরব! মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং দক্ষ করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (মউ) স্বাক্ষরিত হল। এই চুক্তির মাধ্যমে পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আধুনিক তদন্ত পদ্ধতি সংক্রান্ত বিভিন্ন উচ্চমানের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পথ খুলে গেল। এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল, মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা, কলকাতা পুলিশের কমিশনার-সহ রাজ্য পুলিশের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, একসময় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশ দেশের অন্যতম সেরা বাহিনী হিসেবে পরিচিত ছিল। এমনকি আন্তর্জাতিক স্তরেও কলকাতা পুলিশের দক্ষতা ও কর্মসংস্কৃতির প্রশংসা করা হত। কিন্তু বিগত সরকার সেই দক্ষতা ও মানবসম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেনি। ফলে পুলিশের আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের মনে হয়েছে, পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে হলে শুধু জনবল নয়, আধুনিক প্রশিক্ষণ, উন্নত প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নও প্রয়োজন। সেই লক্ষ্য নিয়েই আজকের এই চুক্তি। আমরা চাই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ নিজেদের দক্ষতায় এমন জায়গায় পৌঁছোক, যেখানে প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা আত্মনির্ভর হয়ে উঠবে।” তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীতে কর্মরত পশ্চিমবঙ্গের বহু যুবক-যুবতী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে রাজ্য পুলিশের কর্মীদেরও আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও দক্ষ করে তোলা সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এই যৌথ উদ্যোগ।


মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বিগত দিনে পুলিশের মধ্যে দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম এবং পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে জনগণের যে প্রত্যাশা পুলিশের কাছ থেকে থাকে, অনেক ক্ষেত্রে তা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠেছিল। আমরা সেই পরিস্থিতি বদলাতে চাই।”এই চুক্তির ফলে তদন্ত দক্ষতা বৃদ্ধি, অপরাধ দমনে প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা ও উদ্ভাবন, আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং পুলিশ প্রশাসনের সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই পুলিশের আধুনিকীকরণের জন্য একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বিভিন্ন থানায় নতুন যানবাহন সরবরাহের পাশাপাশি দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী গঠনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিষেবাকে আরও কার্যকর করতে উন্নত ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে চাই, যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নারী নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা এবং জনসুরক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রে আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারবে। পশ্চিমবঙ্গে আমরা ইতিমধ্যেই শাসকের আইন নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছি। আগামী দিনে সেই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে।”  পুলিশকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “জনগণের নিরাপত্তা যেমন আমাদের দায়িত্ব, তেমনই পুলিশের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই না কর্তব্য পালন করতে গিয়ে পুলিশকর্মীদের অযথা বিপদের মুখে পড়তে হোক। আধুনিক প্রশিক্ষণ ও উন্নত সরঞ্জাম তাঁদের আরও সুরক্ষিত করবে।”