পুরপ্রধানের পর এবার ভাইস চেয়ারম্যানও গেলেন, রানাঘাট পুরসভায় ইস্তফার ঢেউ

নদিয়া (Nadia) জেলার রানাঘাট পুরসভায় (Ranaghat Municipality) চলছে ইস্তফার মিছিল। মঙ্গলবার ভাইস চেয়ারম্যান আনন্দ দে-সহ মোট ১১ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করলেন। এর আগেই পুরপ্রধান পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তিনি কাউন্সিলর পদও ছাড়লেন। ২০ আসনের এই পুরসভায় মোট ১২ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করলেন।

রানাঘাট পুরসভার ১, ৩, ৫, ৬, ৯, ১৩, ১৬, ১৮, ১৯ এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা মঙ্গলবার একযোগে ইস্তফাপত্র জমা দিলেন। এই গণপদত্যাগ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে।

এর আগে পুরপ্রধান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পদত্যাগপত্র পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে পাঠিয়েছিলেন ইমেলে। সরকারিভাবে কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিলেন তিনি।


তবে পদত্যাগের প্রসঙ্গে কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় রাজনীতির ছায়া স্পষ্ট। তিনি বলেছেন, রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। রানাঘাটের মানুষের উন্নয়নের জন্য এখন নতুন কাঠামোয় নতুন মানুষদের দায়িত্ব নেওয়া দরকার। নিজে সেই পথে বাধা হয়ে থাকতে চান না তিনি।

তাঁর কথায়, আমি চাই রানাঘাটের আরও বেশি উন্নয়ন হোক, এই সরকার মানুষের জন্য আরও কাজ করুক। তবে তিনিও আর দশ জনের মতো শিবির বদল করছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

যেভাবে রাজ্যের একের পর এক পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড ভেঙে যাচ্ছে, তাতে নাগরিক পরিষেবা যথাযথ দেওয়া একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতেই পারে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন, যে সব পুরসভায় প্রশাসক বসিয়ে কাজ সামলাতে হচ্ছে বা হবে, সর্বত্রই আগামী ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে।

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে এই চিত্র ক্রমশ পরিচিত হয়ে উঠছে। একের পর এক পুরসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং কাউন্সিলররা পদ ছাড়ছেন। কেউ স্বেচ্ছায়, কেউ বা সম্মিলিতভাবে গণইস্তফার পথ বেছে নিচ্ছেন।কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের বিরাট কাঠামোও সম্মিলিত পদত্যাগের জেরে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বিধানগর বা শিলিগুড়িতেও। রানাঘাট সেই তালিকায় নতুন সংযোজন।